কৃষিতে রেড লাইন! এফটিএতে নয়া কৌশল ভারতের

নয়াদিল্লি: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে ভারতের কৌশলে (India)স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে একের পর এক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে…

india-accelerates-ftas-agriculture-red-line

নয়াদিল্লি: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে ভারতের কৌশলে (India)স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে একের পর এক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি ক্ষেত্রে কোনও আপস নয় এই বার্তাও পরিষ্কার করে দিচ্ছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক একাধিক সিদ্ধান্তে ভারতের অবস্থান কার্যত একটি ‘হার্ড রেড লাইন’ টেনে দিল কৃষির প্রশ্নে।

Advertisements

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনাধীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন করে গতি পাচ্ছে। আগামী মাসেই দুই দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসতে পারে। প্রাথমিক প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই বৈঠক থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেড টক শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

   

আইএসএল অনিশ্চয়তায় বিস্ফোরক সৌভিক: জীবন-জীবিকা ঝুঁকিতে ফুটবল

এর পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি মাসে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের রাশিয়া সফরের সম্ভাবনাও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য এফটিএ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রাশিয়া ছাড়াও এই জোটে রয়েছে কাজাখস্তান, বেলারুশ, আর্মেনিয়া ও কিরগিজস্তান। বিকল্প বাণিজ্য রুট তৈরি করতে এই উদ্যোগকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন বছরের শুরুতেই আরেকটি বড় পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় পণ্যের জন্য শূন্য শুল্ক সুবিধা কার্যকর হয়েছে। এর ফলে টেক্সটাইল, চামড়া, গয়না, ফার্মাসিউটিক্যালস-সহ একাধিক খাতে ভারতীয় রফতানিকারকরা বড় সুবিধা পাবেন বলে আশা। শিল্পমহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারতের রফতানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে।

সরকারি সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), ওমান এবং ব্রিটেনের সঙ্গেও এফটিএ নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত বা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ, একাধিক ফ্রন্টে বাণিজ্য দরজা খুলে দিচ্ছে ভারত। তবে এই সব চুক্তির মধ্যেও একটি বিষয় অটল—কৃষি খাত।

কৃষি প্রশ্নে ভারতের অবস্থান একেবারেই অনমনীয়। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, কৃষকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। বিদেশি কৃষিপণ্যকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া বা দেশীয় বাজারকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হবে না। এই অবস্থানই মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ধীর করে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

একজন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞের কথায়, “ভারত এখন আর একটি বা দুটি দেশের উপর নির্ভর করতে চাইছে না। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা জটিল হলে ভারত বিকল্প পথ খুঁজছে এটাই নতুন কৌশল।” তাঁর মতে, কৃষিকে ‘নন-নেগোশিয়েবল’ ঘোষণা করে ভারত আসলে ঘরোয়া রাজনীতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, ভারতের এই কৌশল দ্বিমুখী। একদিকে শিল্প ও রফতানি খাতকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা, অন্যদিকে কৃষিকে সুরক্ষিত রাখা। এই ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সোশ্যাল মিডিয়া ও শিল্পমহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। শিল্পপতিরা বিকল্প বাণিজ্য জোট তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন কৃষি পুরোপুরি আলোচনার বাইরে রাখলে কিছু চুক্তি হাতছাড়া হতে পারে।

Advertisements