নতুন বছরের শুরুতেই বিপর্যয়, বাতিল একাধিক লোকাল

Indian Railways

নতুন বছরের শুরুতেই রেলযাত্রীদের জন্য দুঃসংবাদ। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ে (South Eastern Railway) শাখায় একসঙ্গে একাধিক লোকাল মেমু ট্রেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বড়দিন ও বর্ষবরণের ঠিক আগেই এই ঘোষণা আসায় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

Advertisements

রেলের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি এবং ৩ জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে এই ট্রেনগুলি বাতিল করা হবে। পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে দৈনিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

   

রেল সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে কিছু মেমু ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়া এবং একই রুটে পরপর একাধিক লোকাল ট্রেন চালানোর কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপারেশনাল ব্যয় কমানো এবং পরিষেবার পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যেই এই বাতিলের সিদ্ধান্ত। তবে যাত্রী সংগঠনগুলির মতে, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এই বাতিলের জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ওড়িশার রাউরকেল্লা, ঝাড়সুগুদা ও সম্বলপুর এলাকার নিত্যযাত্রীরা। বহু মানুষ ভোরের দিকে মেমু ট্রেন ধরে খড়গপুর পৌঁছে সেখান থেকে হাওড়া বা কলকাতার দিকে যাতায়াত করতেন। অফিসযাত্রী, পড়ুয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন রুটিন পুরোপুরি নির্ভর করত এই ট্রেনগুলির উপর।

বিশেষ করে বেলদা, বাখরাবাদ, নারায়নগড়, বেনাপুর-সহ একাধিক গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকার বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তে চরম অসুবিধার মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা। বিকল্প ট্রেন সীমিত হওয়ায় যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ভিড়, দেরি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রেল আন্দোলন কর্মী সুশান্ত পানিগ্রাহী এই প্রসঙ্গে বলেন, সকালে দ্রুত হাওড়া পৌঁছনোর জন্য বহু মানুষ বেলদা–খড়গপুর মেমুর উপর নির্ভর করতেন। এই ট্রেন বাতিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই বাড়বে। তাঁর দাবি, অবিলম্বে বেলদা থেকে হাওড়া পর্যন্ত সরাসরি লোকাল চালু করা হোক।

প্রসঙ্গত, বেলদা–হাওড়া লোকাল চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ আংশিক সমাধান হিসেবে বেলদা–খড়গপুর মেমু চালু করেছিল, বর্তমানে সেটিও বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে এতগুলি লোকাল ট্রেন বাতিল হলে অন্য ট্রেনগুলিতে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিষেবার মানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রেল কর্তৃপক্ষের উচিত যাত্রী চাহিদা নতুন করে মূল্যায়ন করে অন্তত গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে পরিষেবা পুনরায় চালু করা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements