
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা গৃহহীনতার (Homeless Population) সংকট আবারও সামনে এল একটি আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে। OECD রিপোর্টের (২০২০ সালের তথ্য, আনুমানিক) ভিত্তিতে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গৃহহীন মানুষের দেশ পাকিস্তান। প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ সেখানে স্থায়ী বাসস্থানের বাইরে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, আর ভারত রয়েছে ১৩ নম্বরে। পরিসংখ্যানটি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, গোটা বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের এক উদ্বেগজনক ছবি তুলে ধরেছে।
শীর্ষে পাকিস্তান, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া দ্বিতীয়
তালিকার প্রথম স্থানে থাকা পাকিস্তানে আনুমানিক ৮০ লক্ষ গৃহহীন মানুষ রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ন, দারিদ্র্য, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাশাপাশি অর্থনৈতিক অস্থিরতা পাকিস্তানে গৃহহীনতার প্রধান কারণ।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিরিয়া, যেখানে প্রায় ৫৩ লক্ষ মানুষ গৃহহীন। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে, যা আজও সেই দেশের মানবিক সংকটকে গভীর করে রেখেছে।
তৃতীয় বাংলাদেশ: জনসংখ্যার চাপ ও জলবায়ু সংকট
তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ গৃহহীন বলে অনুমান করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব এই গৃহহীনতার বড় কারণ। প্রতি বছর হাজার হাজার পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হওয়া গ্রাম ছেড়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলিতে তাই বস্তি ও অস্থায়ী বাসস্থানের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ছবিও উদ্বেগজনক
এই তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া ও ফিলিপিন্স—দু’দেশেই গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৫ লক্ষ। এরপর রয়েছে উগান্ডা (প্রায় ৪০ লক্ষ), আর্জেন্টিনা (৩৬ লক্ষ), সুদান (৩০ লক্ষ)। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্মসংস্থানের অভাব এই দেশগুলিতে গৃহহীনতার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কোথায় ভারত?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই তালিকায় ভারতের অবস্থান কোথায়? OECD রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত রয়েছে ১৩ নম্বরে। দেশে আনুমানিক ১৭ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ গৃহহীন। বিশাল জনসংখ্যার দেশের তুলনায় এই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম মনে হলেও বাস্তবে সমস্যাটি কম গুরুতর নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ভারতে গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে কাজের খোঁজে আসা মানুষ, বস্তিবাসী শ্রমিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে গৃহহীনতার হার বেশি। যদিও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবুও শহুরে গৃহহীনতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
উন্নত দেশগুলিও বাদ যায়নি
এই তালিকায় শুধু উন্নয়নশীল দেশই নয়, রয়েছে উন্নত দেশও। যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২১ নম্বরে, যেখানে প্রায় ৬ লক্ষ ৫৩ হাজার মানুষ গৃহহীন। যুক্তরাজ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার। অর্থাৎ, উন্নত অর্থনীতি হলেও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, মাদকাসক্তি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা গৃহহীনতার বড় কারণ হয়ে উঠছে।
কেন বাড়ছে গৃহহীনতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে গৃহহীনতা বৃদ্ধির পিছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে—
- দ্রুত নগরায়ন ও গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন
- দারিদ্র্য ও বেকারত্ব
- যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
- জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ
- বাড়িভাড়া ও জমির দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
Countries with the most homeless:
1. 🇵🇰 Pakistan – 8,000,000
2. 🇸🇾 Syria – 5,300,000
3. 🇧🇩 Bangladesh – 5,000,000
4. 🇳🇬 Nigeria – 4,500,000
5. 🇵🇭 Philippines – 4,500,000
6. 🇺🇬 Uganda – 4,016,980
7. 🇦🇷 Argentina – 3,600,000
8. 🇸🇩 Sudan – 3,000,000
9. 🇨🇳 China – 2,579,000
10. 🇳🇵… pic.twitter.com/l9qHKfsiNR— Stats Globe (@statsglobe) January 6, 2026
বড় প্রশ্ন মানবিক উন্নয়ন নিয়ে
এই পরিসংখ্যান বিশ্বনেতাদের সামনে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—শুধু অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাসস্থানের নিশ্চয়তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে? পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির পাশাপাশি আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশেও যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন, তখন স্পষ্ট যে সমস্যা বৈশ্বিক।
OECD রিপোর্টের এই তথ্য অনুযায়ী, গৃহহীনতা শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়—এটি গোটা বিশ্বের সামনে দাঁড়ানো এক মানবিক সংকট, যার সমাধানে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতি, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।










