প্রয়াগের সঙ্গমে দূষণের বিষ! স্নান যোগ্যই নয় মহাকুম্ভ! কেন্দ্রেরই রিপোর্টে উদ্বেগ

High level of faecal bacteria in Ganga at Prayagraj

নয়াদিল্লি: প্রয়াগরাজে চলছে মহাকুম্ভ মেলা৷ গঙ্গা-যমুনা ও অন্তঃসলীলা সরস্বতীর জলে ডুব দিয়ে চলছে পূণ্যস্নান৷ তবে প্রয়াগরাজে গঙ্গাজল স্নান করার উপযুক্ত নয়। সম্প্রতি জাতীয় পরিবেশ আদালতে এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ ওই পর্ষদের রিপোর্ট হাতে পেয়েই উত্তরপ্রদেশ সরকারের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে তলব করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। বুধবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দিয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

প্রয়াগরাজে গঙ্গা নদীর জলে ফিকাল ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, মহা কুম্ভ মেলা চলাকালীন গঙ্গার জলে যে ভাবে দূষণ বেড়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

   

CPCB রিপোর্টের সারসংক্ষেপ:

৩ ফেব্রুয়ারি, CPCB যে রিপোর্টটি জমা দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, মহা কুম্ভ মেলার সময় গঙ্গার জলের গুণমান স্নান করার জন্য নির্ধারিত মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। ১২-১৩ জানুয়ারি নাগাদ নদীর জল পরীক্ষা করা হয়ে। তাতে দেখা গিয়েছে, বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিম্যান্ড (বিওডি)-এর নিরিখে ওই জল স্নানের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। বিশেষত, শাহী স্নান এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য গঙ্গার জলে ফিকাল কনটামিনেশন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ৷ 

প্রয়াগরাজের স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) গুলি সচল থাকলেও, এই সময়ে প্রচুর মানুষ স্নান করার কারণে দূষণের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে।

NGT-র পদক্ষেপ:

এই রিপোর্টের পর, বিচারপতি প্রকাশ শ্রীরস্তাভার নেতৃত্বে NGT সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (UPPCB)-এর কর্মকর্তাদের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভার্চুয়ালি হাজির হতে এবং গঙ্গার জল দূষণ কমাতে তাদের নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জল গুণমানের তত্ত্বাবধান:

প্রয়াগরাজে গঙ্গার জলের গুণমান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম নিয়ে NGT আগেই পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছিল যে, ধর্মীয় উৎসবের সময় গঙ্গার জল গুণমান বজায় রাখতে এবং অপরিশোধিত স্যুয়েজ যাতে নদীতে না পড়ে সেজন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সাধারণত প্রতি ১০০ মিলিলিটার জলে সর্বাধিক ২৫০০ ফিকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা খুব বেশি ক্ষতিকর বলে গণ্য হয় না। তবে প্রয়াগরাজের জলে কতটা ফিকাল কলিফর্ম পাওয়া গিয়েছে, তা অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন