ভারত জঙ্গি ঘাঁটি গুড়িয়ে দিতেই এলওসি’তে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণ

Operation Sindoor: India Strikes Pakistan 15 Days After Pahalgam Bloodshed in Kashmir – Latest Update
Heavy Shelling by Pakistan Along LoC After India’s Operation Sindoor

ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওকে) ‘অপারেশন সিঁদুর’ ( Operation Sindoor) নামে জঙ্গি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানোর প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানি সেনারা জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার কার্নাহ এলাকায় লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) বরাবর ভারী গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, পাকিস্তানি সেনারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতীয় দিকে তীব্র গোলাবর্ষণ করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীও সমান মাত্রায় এই গোলাবর্ষণের জবাব দিচ্ছে।

কার্নাহের বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি চলমান রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী রাত ১:৪৪ মিনিটে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “কিছুক্ষণ আগে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “কোনো পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়নি। লক্ষ্য নির্বাচন ও হামলার পদ্ধতিতে ভারত যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে।”

   

এই হামলা গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গিরা এই হামলার জন্য দায়ী, এবং তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, বাহাওয়ালপুর ও মুজাফফরাবাদে বিস্ফোরণের ঘটনায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে এই দাবির সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি।

পাকিস্তানের এই গোলাবর্ষণ এলওসি-তে উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তান একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যার জবাবে ভারতও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত করেছে এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করেন “এটি দ্রুত শেষ হবে।” ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল হামলার পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে ভারতের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসি-তে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, এই হামলা শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছে এবং কোনো বেসামরিক বা সামরিক স্থাপনায় আঘাত করা হয়নি।

কার্নাহ এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। গোলাগুলির কারণে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের এই গোলাবর্ষণ ভারতের হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এটি দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফর করে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’ পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের চলমান গোলাবর্ষণ এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন