
ভারতের দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর দ্বীপকে ঘিরে (Great Nicobar Island)এক যুগান্তকারী কৌশলগত পরিকল্পনা সামনে আনতে চলেছে মোদি সরকার। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রেট নিকোবর দ্বীপে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে, যা একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ও সামরিক ব্যবহারের জন্য ‘ডুয়াল-ইউজ এয়ারফিল্ড’ হিসেবে কাজ করবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই এই সাহসী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা ও কৌশল বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইতিমধ্যেই কনসালট্যান্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, গ্রেট নিকোবরের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সামরিক এয়ারফিল্ড নির্মাণের নকশা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা শিগগিরই চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে।
IAF-এ শুরু হবে দেশীয় ফাইটার যুগ, জাগুয়ারকে প্রতিস্থাপন করবে তেজস মার্ক-১ যুদ্ধবিমান
গ্রেট নিকোবর দ্বীপ ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অংশ হলেও এর অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। এখান থেকে মালাক্কা প্রণালীর মতো বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের উপর নজরদারি রাখা সম্ভব। বর্তমানে এই অঞ্চলের প্রধান সামরিক ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র পোর্ট ব্লেয়ার, যা গ্রেট নিকোবর থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। ফলে যেকোনও সামুদ্রিক বা আকাশপথে উদ্ভূত হুমকির ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় লাগে অনেকটাই বেশি।
নতুন এই বিমানবন্দর ও সামরিক এয়ারফিল্ড তৈরি হলে সেই প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক চাপ, চীনের নৌ ও সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেট নিকোবরের এই এয়ারফিল্ড থেকে নজরদারি বিমান, যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান এবং ড্রোন দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল শুরু হলে দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থাও আমূল বদলে যাবে। পর্যটন, ব্যবসা এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং ‘ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট’ যেখানে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও বেসামরিক উন্নয়ন একসঙ্গে এগোবে। এই বিমানবন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গ্রেট নিকোবর দ্বীপে নতুন কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।
তবে এই প্রকল্প ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগও সামনে এসেছে। গ্রেট নিকোবর দ্বীপ একটি সংবেদনশীল পরিবেশগত অঞ্চল এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাসস্থান হিসেবেও পরিচিত। পরিবেশবিদদের মতে, উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, সমস্ত পরিবেশগত ছাড়পত্র ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া মেনেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সব মিলিয়ে, গ্রেট নিকোবর দ্বীপে বিমানবন্দর ও ডুয়াল-ইউজ সামরিক এয়ারফিল্ড নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের ভারত মহাসাগরীয় কৌশলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও সামরিক প্রস্তুতিকে এক সুতোয় গেঁথে এই পদক্ষেপ ভারতের দক্ষিণ সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করবে এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।










