যোগী রাজ্যে জিহাদি প্রতিরক্ষায় বাড়ি বাড়ি বিলি হচ্ছে অস্ত্র

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের শালিমার (Ghaziabad)গার্ডেন এলাকায় হিন্দু রক্ষা দলের (Hindu Raksha Dal) এক কর্মসূচিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে তলোয়ার ও কুঠার…

ghaziabad-hindu-raksha-dal-weapon-distribution-police-action

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের শালিমার (Ghaziabad)গার্ডেন এলাকায় হিন্দু রক্ষা দলের (Hindu Raksha Dal) এক কর্মসূচিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে তলোয়ার ও কুঠার প্রদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে সেই অস্ত্র তুলে দিয়ে ‘জিহাদিদের হাত থেকে আত্মরক্ষার’ আহ্বান জানান। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এবং দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপ শুরু হয়।

Advertisements

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হিন্দু রক্ষা দলের সদস্যরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, সেখানে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে, তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র রাখা প্রয়োজন। যদিও এই বক্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এ ধরনের উসকানিমূলক বার্তা ও অস্ত্র প্রদর্শনের ফলে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

   

অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যুতে ডবল ইঞ্জিন আক্রমণ কংগ্রেস সাংসদের

খবর পেয়ে গাজিয়াবাদ পুলিশের তিনটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনি ভাবে অস্ত্র প্রদর্শন, জনশান্তি বিঘ্নিত করা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগেই এই মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর হিন্দু রক্ষা দলের সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরীর নামও উঠে এসেছে তদন্তে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, “কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং তা বিতরণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল বা কর্মসূচি করা সম্ভব হল এবং কেন আগেভাগে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এল না। অন্যদিকে, কিছু মহল দাবি করছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে ভয় ও বিভাজন তৈরি করে, যা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য বিপজ্জনক।

মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই ঘটনার নিন্দা করেছে। তাদের বক্তব্য, কোনও ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা অস্ত্র বিতরণ কখনওই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং কোনও ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেনের এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা ও কঠোর পদক্ষেপ কতটা জরুরি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements