
দেরাদুন, ১১ অক্টোবর: উত্তরাখণ্ডের (India Deffence) দেরাদুনে একটি অনুষ্ঠানে ভারতীয় সৈনিকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ) জেনারেল অনিল চৌহান গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “উত্তরাখণ্ড নেপাল ও চীনের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া একটি সীমান্তবর্তী রাজ্য। চীন সীমান্তে যদিও বর্তমানে শান্তি বিরাজ করছে, তবু কিছু মতভেদ রয়েছে।
আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্য ভারতের উত্তর সীমান্তের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি সবাইকে সজাগ করেছে।জেনারেল চৌহানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত-চীন সীমান্তে, বিশেষ করে লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের মতো এলাকায়, উত্তেজনা থাকলেও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা! ৩৫,৪৪০ কোটি টাকার নতুন যোজনা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
তবে, উত্তরাখণ্ডের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। চীনের সঙ্গে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) এবং নেপালের সঙ্গে খোল সীমান্তের কারণে এই রাজ্য সবসময়ই প্রতিরক্ষার দিক থেকে সংবেদনশীল। জেনারেল চৌহান সৈনিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, আপনাদের অভিজ্ঞতা আমাদের নতুন প্রজন্মের সৈনিকদের জন্য পথপ্রদর্শক। সীমান্তে শান্তি থাকলেও আমাদের প্রস্তুতি কখনোই শিথিল করা যাবে না।”
এই অনুষ্ঠানে প্রবীণ সৈনিকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি জেনারেল চৌহান উত্তরাখণ্ডের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এই রাজ্য থেকে প্রচুর সংখ্যক যুবক ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশসেবা করছেন। উত্তরাখণ্ডের মাটি সাহস ও বীরত্বের প্রতীক।” তিনি আরও জানান, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী উন্নত প্রযুক্তি ও সার্বক্ষণিক টহলের উপর জোর দিচ্ছে।
চীনের সঙ্গে সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও তিনি আশ্বাস দেন।দেরাদুনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণ সৈনিকরা জেনারেল চৌহানের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জানান, “আমরা সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেছি। জেনারেলের কথা শুনে মনে হল, দেশ এখনও আমাদের অবদানকে মূল্য দেয়। সতর্কতার বার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “উত্তরাখণ্ডে আমরা সবসময় সীমান্তের চ্যালেঞ্জের কথা জানি। সেনার প্রস্তুতি আমাদের নিরাপত্তার ভরসা দেয়।”
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি জেনারেলের বক্তব্যের সমর্থন করে বলেন, “আমাদের রাজ্য দেশের প্রতিরক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আমরা সেনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।” তবে, কিছু বিরোধী নেতা মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য সীমান্তবর্তী এলাকায় অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।জেনারেল চৌহানের বার্তা স্পষ্ট—শান্তি থাকলেও সতর্কতা জরুরি। উত্তরাখণ্ডের ভারতীয় সৈনিকরা তাঁর কথায় উৎসাহিত হয়েছেন, এবং এই ঘটনা ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরেছে।










