
সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও (Ajit Doval)একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি দাবি বারবার উঠে আসছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে এমন দাবি স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই তথ্য কতটা সত্য আর কতটা ধারণাভিত্তিক?সরকারি স্বীকৃতি নেই, তবে ইঙ্গিত স্পষ্ট।
প্রথমেই পরিষ্কার করা দরকার, অজিত দোভাল মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না এমন কোনও সরকারি বিবৃতি বা নথিভুক্ত বক্তব্য নেই। সরকার এই ধরনের বিষয়ে সাধারণত মুখ খোলে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিদের যোগাযোগ ব্যবস্থার ধরন নিয়ে যে নীরবতা রাখা হয়, সেটাই স্বাভাবিক।
শুভেন্দুর আবেদনে সাড়া দিয়ে চা-কর্মীদের জন্য বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের
ভারত সহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সাধারণ স্মার্টফোন ও পাবলিক মোবাইল ডেটা নেটওয়ার্ক এড়িয়ে চলেন। কারণ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে লোকেশন ট্র্যাকিং, মেটাডাটা সংগ্রহ এবং সাইবার নজরদারির ঝুঁকি জড়িয়ে থাকে। এই ঝুঁকি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
‘ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না’ মানে কী
এখানেই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার না করা মানে ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়। বাস্তবে এমন কর্মকর্তারা এনক্রিপ্টেড ল্যান্ডলাইন, ক্লোজড সরকারি নেটওয়ার্ক এবং বিশেষ সুরক্ষিত ডিভাইসের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। এগুলি সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকে।
কেন এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়
অজিত দোভালের দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা এবং সাইবার ওয়ারফেয়ার নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য থেকেই এই ধারণা জোরদার হয়েছে। তিনি বহুবার প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ডিজিটাল নজরদারির বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। ফলে সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেট এড়িয়ে চলা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত দর্শনের সঙ্গেই মানানসই।
বাস্তব সিদ্ধান্তে কোথায় দাঁড়ায় বিষয়টি
সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায় তিনি সাধারণ মানুষের মতো মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না, এই ধারণা বাস্তবসম্মত। তবে তিনি সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বা ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন নন। তাঁর যোগাযোগ ব্যবস্থা আলাদা, নিয়ন্ত্রিত এবং উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঘেরা।
অজিত দোভাল মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না এই বক্তব্য পুরোপুরি প্রমাণিত সত্য নয়, আবার নিছক গুজবও নয়। এটি মূলত শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রচলিত নিরাপত্তা প্রথার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি যৌক্তিক অনুমান। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রযুক্তির সুবিধার চেয়ে সতর্কতাকেই যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, এই আলোচনা সেটাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।










