
গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি (জিবিএ) নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার (DK Shivakumar)। বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আসন্ন জিবিএ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হবে এবং তার জন্য নির্দিষ্ট আবেদন ফি ধার্য করা হয়েছে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য এই ফি ধার্য করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, আর মহিলা ও দলিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা ২৫ হাজার টাকা।
ডি কে শিবকুমার স্পষ্ট করে বলেন, এই আবেদন ফি কোনও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়। তাঁর কথায়, “দলীয় ভবন নির্মাণের জন্য তহবিল প্রয়োজন। সেই কারণেই এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি একটি বিল্ডিং ফান্ড।” তিনি আরও জানান, যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, তারা সরাসরি অথবা অনলাইনের মাধ্যমেও আবেদন জমা দিতে পারবেন। অনলাইন আবেদনের সুযোগ থাকায় প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
জিবিএ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস যে সাংগঠনিকভাবে কতটা প্রস্তুত হচ্ছে, তারও ইঙ্গিত দেন কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভোট চুরি রুখতে প্রতিটি বুথে আইনি সেল (লিগ্যাল সেল) গঠন করা হবে। এই আইনি সেলগুলি সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে কাজ করবে এবং দলীয় কর্মীদের আইনি পরামর্শ ও দিকনির্দেশ দেবে।
ডি কে শিবকুমারের মতে, ভোটের সময় অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় কর্মীরা আইনি বিষয় নিয়ে সমস্যায় পড়েন। সেই কারণেই বুথ স্তরে আইনি সহায়তা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে আইনি সেল থাকবে, যারা আমাদের কর্মীদের গাইড করবে। এর ফলে যে কোনও অনিয়মের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”
এছাড়াও, বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএদের প্রশিক্ষণের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। শিবকুমারের দাবি, সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত বিএলএ থাকলে ভোটার তালিকা, ভোট গ্রহণ এবং গণনার সময় যে কোনও ধরনের অনিয়ম রোধ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, “বিএলএদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকে।” ভোট চুরি প্রসঙ্গে ডি কে শিবকুমার কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, এই লড়াই চলবে। তাঁর কথায়, “ভোট চুরি গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। আমরা কোনওভাবেই তা বরদাস্ত করব না।” তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস দল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং সেই কারণেই ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিবিএ নির্বাচন কর্নাটকের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেঙ্গালুরু দেশের অন্যতম বড় মহানগর এবং এই কর্তৃপক্ষের উপর নিয়ন্ত্রণ মানেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব। সেই কারণেই কংগ্রেস আগেভাগেই সংগঠন মজবুত করতে চাইছে। অন্যদিকে, আবেদন ফি নিয়ে বিরোধীদের পক্ষ থেকে সমালোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে ডি কে শিবকুমার এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মহিলা ও দলিত প্রার্থীদের জন্য ফি কম রাখা হয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা মাথায় রেখেই।








