নয়াদিল্লি: গণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে এবার ভারতের (Republic Day)স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে দেশীয় আর্টিলারি গান ধনুষ এবং এটিএজিএস। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ থেকে ‘মেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর যাত্রার প্রতীক এই দুই শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবস্থা জাতির শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরতাকে প্রতিফলিত করছে। ২০২৬ সালের গণতন্ত্র দিবসে কর্তব্য পথে যখন এই গানগুলো গর্জন করে এগিয়ে যায়, তখন প্রতিটি ভারতীয়ের বুকে গর্বের অনুভূতি জাগে।
এটি শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হওয়ার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।ধনুষ আর্টিলারি গান ভারতের প্রথম দেশীয় দূরপাল্লার ১৫৫ মিলিমিটার/৪৫ ক্যালিবার টোড হাউইটজার। বোফর্স কেলেঙ্কারির পর দীর্ঘদিন ভারতীয় সেনা নতুন আর্টিলারি গানের জন্য অপেক্ষা করছিল। অবশেষে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড (বর্তমানে অ্যাডভান্সড ওয়েপন্স অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড) এই গান তৈরি করে।
ফ্রান্সের সঙ্গে কি আরেকটি মেগা-চুক্তি হবে? ১১৪টি যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে রাফালের পাল্লা ভারী
ধনুষের রেঞ্জ ৩৮ কিলোমিটারের বেশি, এতে অটোমেটিক লোডিং সিস্টেম, অনবোর্ড বলিস্টিক কম্পিউটার এবং উন্নত সাইটিং সিস্টেম রয়েছে। এটি পাহাড়ি, মরুভূমি বা সমতল সব ধরনের ভূখণ্ডে কার্যকর। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীতে ১১৪টি ধনুষের অর্ডার দেওয়া হয়েছে, কয়েকটি রেজিমেন্ট গঠিত হয়েছে। লাদাখের উচ্চ উচ্চতায় এর সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যাডভান্সড টোড আর্টিলারি গান সিস্টেম (এটিএজিএস) বিশ্বের অন্যতম উন্নত ১৫৫ মিলিমিটার/৫২ ক্যালিবার গান। ডিআরডিও-র নেতৃত্বে ভারত ফোর্জ এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের সহযোগিতায় তৈরি এই গানের রেঞ্জ ৪৮ কিলোমিটারেরও বেশি। অটোমেটিক ফায়ার কন্ট্রোল, প্রিসিশন টার্গেটিং এবং দ্রুত রিকয়েল ম্যানেজমেন্ট এর বিশেষত্ব।
সাম্প্রতিককালে ৩০৭টি এটিএজিএসের বিশাল অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যা আত্মনির্ভর ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এই গানগুলো শুধু ভারতীয় সেনার ফায়ারপাওয়ার বাড়াবে না, বিশ্ববাজারেও রফতানির সম্ভাবনা তৈরি করছে।কর্তব্য পথে এই দুই গানের প্রদর্শনী দেখে মনে হয়, ভারত এখন শুধু নিজের জন্য নয়, বিশ্বের জন্য অস্ত্র তৈরি করছে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ৬৫ শতাংশের বেশি দেশীয় অবদান। ধনুষ এবং এটিএজিএসের মতো প্ল্যাটফর্ম কে-৯ বজ্র, পিনাকা রকেট সিস্টেমের সঙ্গে মিলে ভারতীয় আর্টিলারিকে আধুনিক করে তুলছে। এটি শুধু সামরিক শক্তি নয়, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানেরও উৎস। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে আরও গতিশীল করেছে।
