
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo)-এর সাম্প্রতিক ব্যাপক উড়ান বাতিল ও যাত্রী দুর্ভোগের ঘটনায় এবার সরাসরি পদক্ষেপ নিল বেসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA (Directorate General of Civil Aviation)। বিমান সংস্থাটির নিরাপত্তা ও অপারেশনাল নজরদারির দায়িত্বে থাকা চারজন ফ্লাইট অপারেশনস ইনস্পেক্টর (FOI)-কে সাসপেন্ড করেছে সংস্থা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইন্ডিগোর অপারেশনাল কার্যক্রমে যে নজরদারির অভাব ছিল, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিদর্শকরা ইন্ডিগোর উড়ান কার্যক্রম, নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং নিয়ম মানার প্রক্রিয়াগুলি তদারকির জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন।
কেন এই চরম পদক্ষেপ?
DGCA-এর অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, এই পরিদর্শকদের তদারকিতে ত্রুটি ছিল, যা নতুন পাইলট ডিউটি এবং রেস্ট নিয়ম (Pilot Duty and Rest Norms) কার্যকর করার পর ইন্ডিগোর নেটওয়ার্কে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলার মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়ার পর বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্ডিগোর ওপর নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।
সদর দফতরে DGCA: পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে DGCA-এর কর্মকর্তারা গুরুগ্রামের ইন্ডিগোর সদর দফতরে অবস্থান করছেন।
২৪/৭ নজরদারি: অভূতপূর্ব নজরদারি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বুধবার থেকে একটি oversight প্যানেলের দুই সদস্য এখন সরাসরি বিমান সংস্থাটির দৈনন্দিন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইন্ডিগোর সংকট: মূল কারণ কী? DGCA IndiGo Operational Crisis
ইন্ডিগো, যা ভারতীয় বাজারের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা, বর্তমানে অপারেশনাল সংকটে জর্জরিত। গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন পাইলট ডিউটি এবং রেস্ট নিয়মগুলি কার্যকর করার জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকার কারণে এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যাপক বাতিল: এই সংকটের ফলে হাজার হাজার উড়ান বাতিল হয়েছে। পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারেই দিল্লি ও বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে ২০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়।
সময়সূচি হ্রাস: পরিস্থিতি সামাল দিতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ইন্ডিগোকে তার স্বাভাবিক দৈনিক ২৩০০টি উড়ানের শীতকালীন সময়সূচি থেকে ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা প্রায় ১৯৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে আশা করছে।
সিইও পিটার এলবার্সকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ
এদিকে, DGCA গঠিত একটি তদন্ত প্যানেল বৃহস্পতিবার ইন্ডিগোর সিইও (CEO) পিটার এলবার্সকে কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করে। সংকটের মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়ায় তাঁকে শুক্রবারও পুনরায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে ইন্ডিগোর মানবসম্পদ পরিকল্পনা, রোস্টারিং পদ্ধতি এবং পাইলট ও ক্রুদের জন্য সংশোধিত ফ্লাইট ডিউটি নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোর এই নজিরবিহীন অপারেশনাল বিপর্যয় ভারতীয় বিমান পরিবহণ শিল্পে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করেছে।










