
ইন্ডিগো বিমানসংস্থার চলমান অপারেশনাল সংকট কেবল বিমানবন্দরে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ধীরে ধীরে দিল্লির অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) এই বিপুল ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা হিসাব করেছেন। বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ফলে মূলত রাজধানীর বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন এবং প্রদর্শনী খাতে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা লেগেছে।
CTI-র চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়াল জানিয়েছেন, “দৈনিক ফ্লাইটে এই ধরনের বিঘ্নে ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং কর্পোরেট ভ্রমণকারীদের চলাচলে মারাত্মক বাধা এসেছে। যার ফলে শহরের বাজার কার্যক্রম তীব্রভাবে কমেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিদিন প্রায় ১.৫ লাখ যাত্রী দিল্লি বিমানবন্দর ব্যবহার করেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০,০০০ জন ব্যবসায়ী ও ট্রেডার। কিন্তু ইন্ডিগোর বারবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটের খবরের কারণে এই চলাচল অত্যন্ত কমে গেছে। এছাড়াও হোটেল, রেস্তোরাঁ, ব্যাঙ্কুয়েট এবং রিসোর্টগুলোতে প্রচুর বাতিলকরণ হয়েছে। গত এক সপ্তাহে কেবল হোটেল এবং পর্যটন খাতেই হাজার হাজার বুকিং বাতিল হয়েছে। এর ফলে শহরের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
দিল্লির প্রদর্শনী ও ইভেন্ট ইকোসিস্টেমের ওপর এই সংকটের প্রভাব বিশেষভাবে প্রখর। গত ১০ দিনের মধ্যে প্রগতি মৈদান এবং আনন্দ মন্দপম-এ বিভিন্ন বড় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অটোমোবাইল, হ্যান্ডলুম, টেক্সটাইল, হোম ফার্নিশিং এবং অটো কম্পোনেন্ট সংক্রান্ত প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত।গোয়াল জানান, “ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিলের ফলে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের উপস্থিতি কমেছে। অনেক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অংশগ্রহণকারী শেষ মুহূর্তে তাদের আগমন বাতিল করেছেন। এর ফলে প্রদর্শনী ও ইভেন্টের বাজেট, চুক্তি এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ক্ষতি হয়েছে।”
দৈনিক বিমান চলাচলের উপর নির্ভরশীল বাণিজ্যিক এবং পর্যটন খাতের ওপর এই সংকটের প্রভাব দিগুণ। ব্যবসায়িক সম্মেলন, কর্পোরেট মিটিং, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং সরবরাহ চেইনের ব্যাহত হওয়া—এসবই দিল্লির ব্যবসায়িক পরিবেশকে প্রায় স্তব্ধ করে তুলেছে। ব্রিজেশ গোয়াল বলেন, “এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু হোটেল বা প্রদর্শনীর ক্ষতি নয়, বরং শহরের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস কমে যাবে এবং বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হবেন।”









