chhattisgarh : ‘শহীদ’ ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে মা

chhattisgarh

মা তো মা-ই হয় তা আবারও একবার প্রমাণ মিলল। ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, তাতে কী, ছেলের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এক অভিনব কাজ করলেন এক মা। জানা গিয়েছে, ছত্তিসগড়ের (chhattisgarh) জশপুর জেলায় ছেলের স্মৃতিতে স্মৃতিসৌধ তৈরি করেছেন এক শহিদের মা। স্মৃতিসৌধের কারণে মানুষ শহীদদের গ্রামের নাম জানে। এই গ্রামের নাম হল পার্বনারা। সরকারের পক্ষ থেকে স্মারক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দুই বছর পরেও কিছু না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা নিজ খরচে স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করেছেন।

গোটা গ্রামের মানুষ এই স্মৃতিসৌধকে সম্মান করে। শহীদের মা প্রতিটি উৎসবে নিজেই স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার করেন। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষেও তিনি স্মৃতিসৌধটি পরিষ্কার করেছেন।

   

২০১১ সালে নকশালদের কাছ থেকে লোহা নিতে গিয়ে শহিদ হন ছত্তিশগড় পুলিশের জওয়ান বশিয়েল টোপ্পো। গ্রামে ছেলের স্মৃতিতে একটি স্মারক তৈরি করেছেন মা। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে তিনি স্মৃতিসৌধটি এঁকেছিলেন। শহীদের মা বলেছেন, ‘আমি তার জন্য গর্বিত। আমার কাকা বলেছিলেন যে তিনি পুলিশে ছিলেন। ২০১১ সালে নকশাল হামলার সময় বস্তারে শহিদ হয়েছিল ছেলে।’ পারওয়ানারা গ্রাম একটি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম।

গ্রামের স্কুল চত্বরেই তৈরি হয়েছে শহিদের স্মরণসভা। এই গ্রামটি জশপুর জেলার ফারসাবিহার উন্নয়ন ব্লকের মধ্যে পড়ে।

কয়েক বছর আগে পর্যন্ত, গ্রাম থেকে মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের খবর পাওয়া গিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের নজরে আসার পর প্রশাসন গ্রামে কিছু ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।

একই সঙ্গে প্রতি রাখিবন্ধনে শহিদ বাসিল টোপ্পোর বোনেরা তাঁকে রাখি বাঁধেন। প্লেটটি সজ্জিত করে, মেয়েরা স্মৃতিসৌধে পৌঁছে যান এবং রাখি বাঁধেন। আশপাশের লোকজনও বিশেষ উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে এসে শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন। দীপাবলিতে, লোকেরা স্মৃতিসৌধে প্রদীপ জ্বালায়। একই সঙ্গে বড়দিন উপলক্ষে কেক কাটেন গ্রামের মানুষও।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন