ভাইজাগ ইস্পাত প্রকল্পে নাইডুর পাশে কেন্দ্র

এবার ভাইজাগ ইস্পাত প্রকল্পে চন্দ্রবাবু নাইডুর (chandra babu naidu) পাশে মোদী সরকার। কেন্দ্র ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সরকার বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্ট (ভিএসপি) বা রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম…

modi government with chandra babu naidu

এবার ভাইজাগ ইস্পাত প্রকল্পে চন্দ্রবাবু নাইডুর (chandra babu naidu) পাশে মোদী সরকার। কেন্দ্র ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সরকার বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্ট (ভিএসপি) বা রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেড (আরআইএনএল)-কে শক্তিশালী করার জন্য একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।

এই লক্ষ্যে সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫, কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে তাঁর উন্দাভাল্লির বাসভবনে আলোচনা করে। এই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল এনডিএ সরকারের পক্ষ থেকে স্টিল প্ল্যান্টের জন্য ঘোষিত আর্থিক প্যাকেজের পরবর্তী উন্নয়ন এবং এর পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

   

তৃতীয় ফার্নেস পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা

বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ইস্পাত প্রতিমন্ত্রী ভূপতিরাজু শ্রীনিবাস ভর্মা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান, কারণ রাজ্য সরকার স্টিল প্ল্যান্টের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী (এসপিএফ) মোতায়েন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী নাইডু প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্ল্যান্টের অগ্রগতির নিয়মিত পর্যালোচনা এবং বর্তমানে চালু থাকা দুটি ব্লাস্ট ফার্নেসের পাশাপাশি তৃতীয় ফার্নেসটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভিএসপি শুধু একটি কারখানা নয়, এটি অন্ধ্রপ্রদেশের জনগণের আবেগ এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বের প্রতীক। এর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা রাজ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Advertisements

আরো দেখুন EPFO সদস্যদের জন্য সুখবর! এখন পিএফ অগ্রিম তোলার সীমা ৫ লাখ

চন্দ্রবাবু নাইডু (chandra babu naidu)প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান

মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু (chandra babu naidu) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান, কারণ তারা রাজ্যের অনুরোধ বিবেচনা করে স্টিল প্ল্যান্টের পুনরুজ্জীবনের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই ঐতিহাসিক স্টিল প্ল্যান্টকে তার পূর্ব গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারব।”

নাইডু আশ্বাস দেন যে, রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, যদি প্ল্যান্টের পরিচালন ব্যয় কমানো না হয় এবং দক্ষতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো না হয়, তবে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হবে না।

বৈঠকে ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের সচিব সন্দীপ পৌন্ড্রিক, যুগ্ম সচিব অভিজিৎ নরেন্দ্র, এনএমডিসি-র সিএমডি অমিতাভ মুখোপাধ্যায়, আরআইএনএল-এর প্রভারী সিএমডি অজিত কুমার সাক্সেনা, মেকনের সিএমডি এস কে বর্মা এবং এমএসটিসি লিমিটেডের সিএমডি মনোবেন্দ্র ঘোষাল উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনা ভিএসপি-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে এনডিএ সরকার ১১,৪৪০ কোটি টাকার একটি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে ১০,৩০০ কোটি টাকা ইকুইটি এবং ১,১৪০ কোটি টাকার ঋণকে পছন্দের শেয়ার মূলধনে রূপান্তর করা হয়েছে। এই প্যাকেজের প্রথম কিস্তি হিসেবে জানুয়ারি ৩০, ২০২৫-এ ৬,৭৮৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই তহবিলের মাধ্যমে প্ল্যান্টের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী নাইডু বলেন

মুখ্যমন্ত্রী নাইডু (chandra babu naidu) বলেন, “ভিএসপি অন্ধ্রপ্রদেশের জনগণের জন্য একটি আবেগের প্রতীক। এটি শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের সংগ্রাম ও গর্বের স্মারক।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্ল্যান্টকে বাঁচানো এবং এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘বিকশিত ভারত-বিকশিত অন্ধ্র’ দৃষ্টিভঙ্গিতে এই প্ল্যান্টের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

ভিএসপি বর্তমানে তিনটি ব্লাস্ট ফার্নেসের মধ্যে দুটি নিয়ে কাজ করছে। তৃতীয় ফার্নেসটি চালু করা হলে এর উৎপাদন ক্ষমতা ৭.৩ মিলিয়ন টন প্রতি বছরে পৌঁছতে পারে। তবে, আর্থিক সংকট এবং কাঁচামালের ঘাটতির কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্ল্যান্টের নিট মূল্য ছিল -৪,৫৩৮ কোটি টাকা। এর বর্তমান সম্পদ ৭,৬৮৬ কোটি টাকা এবং দায় ২৬,১১৪ কোটি টাকা। এই প্যাকেজের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নাইডু বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্ল্যান্টটিকে বাঁচানো নয়, এটিকে লাভজনক করে তোলা। এর জন্য দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমাতে হবে।” তিনি কর্মীদেরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি এনএমডিসি-র সঙ্গে সমন্বয় করে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

এই আলোচনা অন্ধ্রপ্রদেশের জনগণের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, ভিএসপি শুধু শিল্পের জন্য নয়, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলেও এটি নিয়ে প্রশংসা শোনা যাচ্ছে। তবে, বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস দাবি করেছে, তাদের আমলেও এই প্ল্যান্টের জন্য লড়াই করা হয়েছিল।

এই বৈঠকের ফলাফল ভিএসপি-র ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তৃতীয় ফার্নেস চালু হলে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে, এটি আবারও দেশের শীর্ষ স্টিল উৎপাদকদের তালিকায় ফিরতে পারে। নাইডুর নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলবে। তবে এটি নিঃসন্দেহে অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য একটি আশার আলো।