জম্মু ও কাশ্মীর: সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর এবার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় গেরিলা আক্রমণ মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে তৈরি নতুন কমব্যাট ইউনিফর্ম চালু করল বিএসএফ। জম্মু ও কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) সংলগ্ন বনাঞ্চলে এই নতুন ইউনিফর্ম ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বছরের আগে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উৎসবের সময়, বছরের শেষ ভাগ কিংবা খারাপ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা চালায় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। সেই কারণেই এবার আগাম সতর্কতায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না নিরাপত্তা বাহিনী।
কম্বোডিয়ান লিগে যোগ দিলেন কনর শিল্ডস
নতুন যে কমব্যাট ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছে, তা মূলত জঙ্গল ও ঘন বনাঞ্চলে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা। এই পোশাকের রং ও নকশা এমনভাবে তৈরি, যাতে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বা গেরিলা কৌশলে অভিযান চালানো আরও সহজ হয়। আধুনিক ক্যামোফ্লাজ প্রযুক্তির ফলে দূর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিএসএফের এক আধিকারিক জানান, “এলওসি-র বড় অংশই ঘন বন ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘেরা। এখানে প্রচলিত ইউনিফর্ম সব সময় কার্যকর হয় না। নতুন ইউনিফর্ম জঙ্গলে চলাচল, নজরদারি এবং হঠাৎ সংঘর্ষের সময় বাহিনীর কার্যক্ষমতা অনেক বাড়াবে।”
‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অভিজ্ঞতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই অভিযানের সময় জঙ্গল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গিদের গেরিলা কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কখনও কুয়াশা, কখনও ঘন জঙ্গল ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়। সেই পরিস্থিতিতে আধুনিক সরঞ্জাম ও উপযুক্ত পোশাকের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়।
নতুন ইউনিফর্মের পাশাপাশি সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানও জোরদার করা হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে, থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ও খারাপ আবহাওয়ায় যাতে কোনও অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।
বিএসএফ সূত্র আরও জানায়, অতীতে দেখা গেছে শীতকাল ও উৎসবের মরসুমে সীমান্তে চাপ বাড়ে। বরফ, বৃষ্টি বা কুয়াশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জঙ্গিরা এলওসি পেরোনোর চেষ্টা করে। সেই কারণেই নতুন বছরের আগে থেকেই বাহিনী ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অস্ত্র বা প্রযুক্তি নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক ও সরঞ্জাম আধুনিক করা এখন অত্যন্ত জরুরি। নতুন কমব্যাট ইউনিফর্ম সেই দিক থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু বাহিনীর নিরাপত্তাই বাড়াবে না, মনোবলও দৃঢ় করবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জঙ্গলভিত্তিক গেরিলা আক্রমণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফের এই নতুন উদ্যোগ ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। নতুন ইউনিফর্ম, আধুনিক প্রযুক্তি ও কড়া নজরদারি তিনের সমন্বয়ে এলওসি-তে এবার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত।
