
নয়াদিল্লি: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব (Pakistan occupied Kashmir)ব্ল্যাকম্যান ফের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সরব হয়েছেন। ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পুরো জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অধীনে ফিরিয়ে আনার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ব্ল্যাকম্যান বলেন, “শুরু থেকেই পুরো প্রিন্সলি স্টেট অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীরকে ভারতের মুকুটের অধীনে একত্রিত করা উচিত ছিল।”
তিনি আরও জানান, ১৯৯২ সাল থেকেই তিনি আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের সমর্থক। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জোর করে উচ্ছেদের পর থেকে তিনি এই দাবি তুলেছেন এবং সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।বব ব্ল্যাকম্যান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে সবচেয়ে পরিচিত মুখ। হারো অ্যান্ড হ্যারো ইস্ট আসনের সাংসদ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করে আসছেন।
সরকারি কর্মীদের ভাতা নিয়ে বড় আপডেট দিল রাজ্য সরকার
কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের গণহত্যা ও উচ্ছেদের ইস্যুতে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একাধিকবার প্রস্তাব তুলেছেন। ২০১৯ সালে ভারত সরকার আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল করলে তিনি প্রথম ব্রিটিশ সাংসদদের মধ্যে একজন যিনি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তিনি বলেছিলেন, এটি কাশ্মীরের উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস দমনের পথ প্রশস্ত করবে।এবার তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। পুরো জম্মু-কাশ্মীরকে যার মধ্যে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং চিনের দখলে থাকা অকসাই চিনও রয়েছে ভারতের অধীনে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন।
তাঁর মতে, ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৭ সালে মহারাজা হরি সিংহের যোগদানপত্রের মাধ্যমে পুরো প্রিন্সলি স্টেট ভারতের অংশ হয়েছিল। পাকিস্তানের আগ্রাসন এবং পরবর্তীকালের দখলদারি অবৈধ। ব্ল্যাকম্যান বলেন, “কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ১৯৯০-এর গণহত্যা এবং উচ্ছেদের পর থেকে আমি এই ইস্যুতে সক্রিয়। সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া পাকিস্তানের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে বিশ্বের উচিত সোচ্চার হওয়া।”
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্ল্যাকম্যানের এই অবস্থান ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তিনি অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন কাশ্মীরি পণ্ডিতসের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করছেন। গত কয়েক বছরে তিনি একাধিকবার কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন এবং তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। ভারতে তাঁর এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি এবং অনেক হিন্দু সংগঠন।
বিজেপির মুখপাত্র বলেছেন, “বব ব্ল্যাকম্যানের মতো আন্তর্জাতিক নেতারা যখন সত্য কথা বলেন, তখন পাকিস্তানের মুখোশ খসে যায়।”অন্যদিকে, পাকিস্তান এবং কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ব্ল্যাকম্যানের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, এটি ভারতের আগ্রাসী মনোভাবের প্রতিফলন। কিন্তু ব্ল্যাকম্যান নির্বিকার। তিনি বলেন, “আমি সত্যের পক্ষে কথা বলি।
কাশ্মীরি পণ্ডিতদের দুর্দশা এবং সন্ত্রাসের শিকার মানুষদের কথা বিশ্বের জানা উচিত।”ব্রিটেনে ভারতীয় ডায়াস্পোরার মধ্যে ব্ল্যাকম্যানের জনপ্রিয়তা অনেক। তিনি প্রায়ই হিন্দু সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক জোরদার করার পক্ষে কথা বলেন। কাশ্মীর ইস্যুতে তাঁর এই দৃঢ় অবস্থান তাঁকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছে। অনেকে তাঁকে ‘কাশ্মীরের বন্ধু’ বলে ডাকেন।










