
দিল্লি: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধাণ সোমবার লোকসভায় উন্নত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল (Viksit Bharat Shiksha Bill) ২০২৫ উপস্থাপন করেছেন, যা ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ সহজ করা, একাধিক সংস্থার অযথা ওভারসাইট কমানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন বাড়ানো।
ভারতের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্র বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণ ও জটিল নিয়ম-কানুনের সমস্যায় ভুগছে। ইউজিসি, AICTE, NCTE-এর মতো একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা একে অপরের সঙ্গে ওভারল্যাপিং নিয়ম আরোপ করছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে ফেলে। নতুন বিল এই সমস্যার সমাধান করতে একক ও সম্মিলিত নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে।
বিলটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনকে সরলীকরণ, স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি, এবং গুণগত মান উন্নতকরণ এর ওপর জোর দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা এবং উদ্ভাবন, নমনীয়তা ও বহুমুখী শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
বিলের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
একক, সম্মিলিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরি করা
প্রশাসনিক জটিলতা ও ডুপ্লিকেশন কমানো
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি করা
উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা
১. শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন:
উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য, স্বচ্ছ এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক হবে। বহুমুখী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনমূলক দক্ষতা অর্জন করবে।
২. আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ:
বিলটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান অনুসরণ করতে উৎসাহিত করে, যা ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান, প্রতিযোগিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।
৩. নিয়ন্ত্রক সংস্কার:
স্বাধীন কাউন্সিলের মাধ্যমে মান, নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাক্রেডিটেশন পৃথক করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর একক উইন্ডো সিস্টেম অনুমোদন প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দক্ষ করবে।




