ছত্তিসগড়: ছত্তিসগড়ের বিজাপুর জেলায় (Maoist)আজ সকালে নকশালবাদীদের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় চলা এনকাউন্টারে দুই কুখ্যাত মাওবাদী নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন হলেন ন্যাশনাল পার্ক এরিয়া কমিটির ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (DVCM) দিলীপ বেড়জা। পুলিশের প্রাথমিক শনাক্তকরণ অনুযায়ী, দিলীপ বেড়জা এই কমিটির প্রধান নেতা ছিলেন এবং তিনি একাধিক হামলা, বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র অভিযানে জড়িত ছিলেন।
অপর নিহত মাওবাদীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।এনকাউন্টারটি শুরু হয় সকাল থেকে, যখন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG), স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং CRPFর এলিট ইউনিট কোবরার যৌথ দল গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে উত্তর-পশ্চিম বিজাপুরের জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় সার্চ অপারেশন শুরু করে। দিলীপ বেড়জা ও অন্যান্য সশস্ত্র মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে এই অভিযান চালানো হয়।
কেন ট্রাম্পের সঙ্গে গোপন বৈঠকের প্রয়োজন হল মোসাদ প্রধানের ?
সূত্র বলছে, দিলীপ বেড়জা ন্যাশনাল পার্ক এরিয়া কমিটির DVCM হিসেবে বছরের পর বছর ধরে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে একাধিক হামলা হয়েছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল।এনকাউন্টারের পর দুই পুরুষ মাওবাদীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহের কাছ থেকে দুটি AK-47 রাইফেল সহ অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বাস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গম বলেন, “কঠিন ভৌগোলিক অবস্থা ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি সত্ত্বেও DRG, CoBRA ও STF-এর জওয়ানরা অসাধারণ সাহস ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।” বিজাপুরের এসপি জিতেন্দ্র যাদব জানান, অভিযান এখনও চলছে। এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে, আরও মৃতদেহ বা অস্ত্র উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনা ২০২৬-এর শুরুতেই ছত্তীসগড়ে নকশালবাদ বিরোধী অভিযানের বড় সাফল্য। গত ৩ জানুয়ারি বাস্তার অঞ্চলে দুটি এনকাউন্টারে ১৪ জন নকশালী নিহত হয়েছিলেন। গত বছর ছত্তীসগড়ে মোট ২৮৫ জন নকশালী এনকাউন্টারে মারা গিয়েছেন।
কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে নকশালবাদকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা। বিজাপুর, যা বাস্তারের সাতটি জেলার অন্যতম, এখনও নকশাল প্রভাবিত এলাকা। ন্যাশনাল পার্ক এরিয়া ঘন জঙ্গলের কারণে মাওবাদীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা এই অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, দিলীপ বেড়জার মতো নেতাদের নির্মূল হলে এলাকায় শান্তি ফিরবে। তবে কিছু মানুষ নকশালীদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার কথা বলছেন। পুলিশ বলছে, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে নকশালবাদের অবসান ঘটানো যায়।
