
উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় একটি বিরিয়ানির দোকান ঘিরে (Basti biryani shop Pakistan flag clash)‘পাকিস্তানের পতাকা’ সন্দেহে গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দোকান মালিক শৈলেশ যাদব ও তাঁর সহযোগী রফিককে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বস্তি শহরের একটি ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত একটি বিরিয়ানির ঢাবার সামনে চাঁদ-তারকা চিহ্নযুক্ত একটি পতাকা লাগানো ছিল। স্থানীয় কিছু মানুষের অভিযোগ, ওই পতাকাটি দেখতে অনেকটা পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার মতো হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা আপত্তি তোলেন এবং দোকানের সামনে জড়ো হন।
ধরমশালা টি ২০ তে টপ অর্ডার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত গম্ভীরের
এই ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, হিন্দু সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে দোকানপক্ষ ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা গোষ্ঠী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, দোকানপাট বন্ধ হতে শুরু করে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।
এই ঘটনায় যেসব সংগঠনের নাম সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে Bajrang Dal এবং Vishwa Hindu Mahasangh। সংগঠনগুলির কর্মীদের দাবি, ভারতের মাটিতে কোনওভাবেই পাকিস্তানের প্রতীক বা পতাকা সহ্য করা হবে না। যদিও পরে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ওই পতাকাটি আসলে কোনও রাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা নয়, বরং সাধারণ একটি ধর্মীয় বা সাজসজ্জার প্রতীক ছিল।
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ। বস্তি জেলার পুলিশ সুপার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন কয়েকজন আহত হলেও কারও গুরুতর আঘাতের খবর নেই। এমনকি একজন পুলিশ আধিকারিক সামান্য চোট পেলেও, পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
পুলিশ এই ঘটনায় বিরিয়ানির দোকানের মালিক শৈলেশ যাদব এবং তাঁর সহযোগী রফিককে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ, উসকানি দেওয়া এবং পরিস্থিতি অশান্ত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত পতাকাটি দোকান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং কোনও পক্ষকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।
এই ঘটনার খবর দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট হওয়া ভিডিও ও মন্তব্যে বিষয়টি আরও উসকে ওঠে। কেউ কেউ এটিকে জাতীয় আবেগের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন, আবার অনেকে সতর্ক করে বলেন—এই ধরনের ভুল বোঝাবুঝি ও গুজব থেকেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ঘিরে সংবেদনশীলতা এতটাই তীব্র যে কোনও প্রতীক বা চিহ্নকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে বড় অশান্তি তৈরি হতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বস্তি জেলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে জন্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সব মিলিয়ে, বস্তির এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—প্রতীক, পতাকা বা চিহ্নকে ঘিরে ভুল ব্যাখ্যা কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে। যদিও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে, তবু সমাজে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সংযমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই ঘটনা।










