
অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করার অভিযোগে গ্র্রেফতার হন ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladeshi)। আজ সাজা সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের বাংলায় পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সোমবার তাঁদের রাজ্যে আনা হয়েছে এবং আগামী ১৩ জানুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ (BSF) তাঁদের হেফাজতে নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে আগ্রা শহরের সিকান্দ্রাতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজা কাটানোর পর তাঁদের জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে মুক্তির পর তাঁদের সরাসরি দেশে ফেরানো হয়নি। আইন অনুযায়ী, সাজা শেষে অবৈধ বিদেশিদের নির্দিষ্ট ট্রানজিট পয়েন্টে পাঠিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
আইএসএলে ইস্ট-মোহনের হোম ম্যাচ হবে কোথায়? উত্তর মিলবে এই দিন
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছনোর পর বিএসএফ তাঁদের গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবে আগামী ১৩ জানুয়ারী। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “এই ধরনের প্রত্যাবাসন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সাজা শেষ হওয়ার পরও যাতে কেউ বেআইনিভাবে দেশে থেকে না যান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।” তাঁর কথায়, বিএসএফ ও বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত দফতরের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা ফের প্রমাণ করছে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গ্রেফতার বা সাজা নয়, অবৈধ অনুপ্রবেশের মূল কারণগুলিকেও চিহ্নিত করা জরুরি। কাজের সন্ধান, দারিদ্র্য কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ এই সব কারণেই বহু মানুষ বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি যে বড় চ্যালেঞ্জ, সে কথা মানছেন সকলেই।
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ দাবি করছে, প্রত্যাবাসনের সময় যাতে কোনও মানবিক সমস্যা না হয়, সে দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আইন মেনেই এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সব মিলিয়ে, ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবাসন নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা কমাতে কী ধরনের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।










