
ঢাকা: দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফের ঘনিয়েছে অনিশ্চয়তার মেঘ (Bangladesh)। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকার তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থিত ছয়টি কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে ভারতীয়দের জন্য পর্যটন ভিসা সহ একাধিক নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিসা দেওয়া আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এসেছে, যখন দুই দেশের সম্পর্কে ইতিমধ্যেই টানাপোড়েন স্পষ্ট। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে শীতলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার নেতৃত্বে আসা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের অধীনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যে আগের মতো উষ্ণ থাকছে না, তারই ইঙ্গিত মিলছে এই ভিসা সিদ্ধান্তে।
ইডি অভিযানের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল, শুক্রবার পথে নামবেন মমতা
বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের জবাবে ভারতও নীরব থাকেনি। সূত্রের খবর, আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় মিশনগুলিতে ভিসা ইস্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিসা স্থগিতকরণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর মধ্যে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ হয়তো ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই লড়াইয়ে ঢাকাই ভুল পথে হাঁটছে। কারণ ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক।
ভারতীয় পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে যাতায়াতকারী বহু মানুষ এই সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাবিত হবেন। বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসা সংক্রান্ত ভিসার উপর নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য, পর্যটন এবং শিক্ষা বিনিময়ের উপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠছে যে তারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতের পথে হাঁটছে। ভারতের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে পড়তে পারে বলেও মত ওয়াকিবহাল মহলের।
তবে এখনও দুই দেশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনও ঘোষণা হয়নি। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। আপাতত এটুকু স্পষ্ট ভিসা নিয়ে এই টানাপোড়েন ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে কূটনৈতিক সংযমই হতে পারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।









