
নয়াদিল্লি ১৫ ডিসেম্বর: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে আবিষ্কৃত তেলের ভান্ডার নিয়ে সংসদে (Ashoknagar Oil Reserve)গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ইস্যুতে সরব হয়ে বলেছেন যে, এই তেল ভান্ডারের সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এটি পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি গোটা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা নেবে।
তাঁর প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে যে, অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ওএনজিসি) এই এলাকায় একাধিক তেলের সন্ধান পেয়েছে এবং উত্তোলনের কাজ এগিয়ে চলছে। এই আবিষ্কার রাজ্যের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।অশোকনগরে তেলের সন্ধান প্রথম মেলে ২০১৮ সালে।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী হরদ্বীপ সিং বলেন, বিষয়টি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা তিনি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারছেন। তিনি জানান, সংসদেই নয়, বাইরে অনেকের মনেই তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, **ডিসেম্বর মাসেই ONGC এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে চিঠিপত্রের আদান–প্রদান হয়েছে**, যার নথি তাঁর হাতে এসেছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, উৎপাদন শুরু করা নিয়ে নতুন করে কোনও জটিলতা তৈরি হয়নি এবং সব প্রস্তুতি সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, “আর কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। যদি সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেল ও গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু হয়ে যেতে পারে।”
ওএনজিসি-র দীর্ঘ অনুসন্ধানের ফলে এই এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক তেল ও গ্যাসের ভান্ডার পাওয়া যায়। এরপর ২০২০ সালে উত্তোলন শুরু হয় এবং হলদিয়া রিফাইনারিতে তেল পাঠানো হয়। কিন্তু রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পেট্রোলিয়াম মাইনিং লিজ (পিএমএল) পেতে দেরি হওয়ায় কাজে বাধা পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও চারটি নতুন সন্ধান মেলায় এই ভান্ডারের পরিধি বেড়েছে। শমীক ভট্টাচার্য সংসদে এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “এই তেল ভান্ডারের সম্ভাব্য মূল্য ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
এটি রাজ্যের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা নেবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় দ্রুত উত্তোলন শুরু করলে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং রাজ্যের রাজস্ব বাড়বে।”কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের উত্তরে জানানো হয়েছে যে, অশোকনগরের তেলের গুণমান অত্যন্ত উচ্চ—বোম্বে হাইয়ের থেকেও ভালো। এখানকার ক্রুড অয়েলের এপিআই গ্র্যাভিটি ৪০-৪১ ডিগ্রি, যা বিশ্বমানের।
ওএনজিসি ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য সরকার সম্প্রতি কিছু অনুমতি দিয়েছে, যার ফলে উত্তোলনের গতি বাড়বে। এই তেল ভান্ডার থেকে দৈনিক শত শত ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব, যা দেশের জ্বালানি আমদানি কমাতে সাহায্য করবে।রাজনৈতিক মহলে এই আলোচনা বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, রাজ্য সরকারের সহযোগিতা না থাকলে এই সম্ভাবনা নষ্ট হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন যে, রাজ্য সবসময় কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে এবং পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে প্রকল্প এগোচ্ছে। অশোকনগরের স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত। তাঁরা মনে করছেন, এই প্রকল্প থেকে রাস্তাঘাট, স্কুল-হাসপাতালের উন্নয়ন হবে এবং যুবকদের চাকরির সুযোগ বাড়বে।










