উসমান হাদির হামলায় ইউনুস সরকারের চাঞ্চল্যকর দাবি

ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা (Attack on Usman Hadi)মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউনুস সরকার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে…

yunus-government-claim-usman-hadi-attack

ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা (Attack on Usman Hadi)মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউনুস সরকার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে, র‍্যাডিক্যাল নেতা শরীফ উসমান হাদির উপর হামলাকারীরা যদি ভারতে প্রবেশ করে, তাহলে তাদের গ্রেফতার করে ফেরত পাঠানো হোক। কিন্তু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কোনো যাচাইকৃত প্রমাণ নেই।

Advertisements

এই ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে আরও উজাগর করেছে, যখন দেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় দিবালোকে মোটরসাইকেলে করে দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ উসমান হাদিকে গুলি করে। মাথায় গুলি লাগায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চলে যান।

   

বাংলাদেশে ভোটের মুখে গুলিকাণ্ডে কেন ভারতের দ্বারস্থ ইউনুস প্রশাসন?

প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ারে স্থানান্তরিত করা হয়। সোমবার তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলার পরপরই হাদি ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ নামে একটি মানচিত্র শেয়ার করেছিলেন ফেসবুকে, যাতে ভারতের পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। এই পোস্ট অত্যন্ত বিতর্কিত হয় এবং অনেকে এটাকে উস্কানিমূলক বলে সমালোচনা করেন।

হাদি শেখ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা এবং ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত।হামলার পর ইউনুস সরকার দ্রুত সাড়া দেয়। প্রধান উপদেষ্টা নিজে জরুরি বৈঠক করে হামলাকে ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। সন্দেহভাজনদের ছবি প্রকাশ করে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি—ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর শেখ—এর নাম উঠে আসে।

পুলিশের কিছু সূত্র দাবি করে তারা ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। এর ভিত্তিতে রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে অনুরোধ জানায় যে, হামলাকারীরা যদি ভারতে প্রবেশ করে তাহলে তাদের গ্রেফতার করে এক্সট্রাডিশন করা হোক। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।

কিন্তু ঢাকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, হামলাকারীদের ভারতে পালানোর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে এবং সন্দেহভাজনরা এখনও দেশের মধ্যেই থাকতে পারেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এবং ভারত কখনো তার ভূমি বাংলাদেশ-বিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহার হতে দেয়নি।

Advertisements