নেতাজির ১২৯তম জন্মবার্ষিকী, কাতর ভাবে কী আর্জি জানালেন মেয়ে অনীতা?

কলকাতা: আশি বছর অতিক্রান্ত। আজও অমীমাংসিত রহস্য আর আবেগের টানাপোড়েনে বন্দি ভারতের মুক্তি-সূর্য সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তিম পরিণতি। আজ, ২৩ জানুয়ারি, দেশনায়কের ১২৯তম জন্মবার্ষিকীতে সেই আবেগে…

anita Bose appeal on Netaji birth anniversary

কলকাতা: আশি বছর অতিক্রান্ত। আজও অমীমাংসিত রহস্য আর আবেগের টানাপোড়েনে বন্দি ভারতের মুক্তি-সূর্য সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তিম পরিণতি। আজ, ২৩ জানুয়ারি, দেশনায়কের ১২৯তম জন্মবার্ষিকীতে সেই আবেগে নতুন মাত্রা যোগ করলেন তাঁর কন্যা ড. অনিতা বসু পাফ। জার্মানি থেকে পাঠানো এক বার্তায় ভারত সরকার ও দেশবাসীর কাছে তাঁর সনির্বন্ধ আবেদন, টোকিয়োর রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজির চিতাভস্ম সসম্মানে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

Advertisements

‘নির্বাসনের অবসান হোক’

পরাক্রম দিবসের আবহে অনিতা বসু পাফ মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে মানুষটি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু নির্বাসনে কাটিয়ে দিলেন, মৃত্যুর আট দশক পরেও তাঁর চিতাভস্ম বিদেশের মাটিতে পড়ে থাকাটা অত্যন্ত বেদনার। তাঁর আক্ষেপ, বিদেশের মাটিতে এই দীর্ঘ অবস্থান ভারতের এই মহানায়কের প্রতি এক প্রকার অসম্মান। যারা নেতাজিকে ভালোবাসেন, সেই অগুনতি ভারতীয়দের কাছে অনিতার আবেদন, এবার সমবেত কণ্ঠে দাবি উঠুক, যাতে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নেতাজির দেহাংশ ভারতভূমিতে শেষকৃত্য পায়।

   

ইতিহাস ও ধোঁয়াশার সন্ধিক্ষণে anita Bose appeal on Netaji birth anniversary

১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনা কি নেতাজির জীবনের যবনিকা টেনেছিল, নাকি তিনি ছদ্মবেশে ফিরেছিলেন ভারতের মাটিতেই? ‘গুমনামী বাবা’ বিতর্ক বা শাহনওয়াজ কমিটি থেকে মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রহস্যের জট পাকিয়েছে। তবে অনিতা বসু পাফ বরাবরের মতোই তাইহোকুর দুর্ঘটনাতেই তাঁর পিতার প্রয়াণের তত্ত্বে বিশ্বাসী। তাঁর মতে, টোকিয়োর রেনকোজি মন্দিরে গচ্ছিত চিতাভস্মই নেতাজির একমাত্র পার্থিব অবশেষ, যা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে ইতিহাসের এক ট্র্যাজিক সত্য।

এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের খতিয়ান

প্রতিবেদনে নেতাজির সেই দুঃসাহসিক অভিযানের কথা তুলে ধরেছেন অনিতা। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে ভারত ত্যাগ, ইউরোপ থেকে সাবমেরিনে চড়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পৌঁছানো এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের পুনর্গঠন, এই প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল ভারতের সশস্ত্র সংগ্রামের এক একটি মাইলফলক। অনিতার বয়ানে, ১৯৪৫-এ জাপানের আত্মসমর্পণের সন্ধিক্ষণে সিঙ্গাপুর থেকে টোকিয়ো যাওয়ার পথেই ঘটে সেই মরণান্তক বিমান দুর্ঘটনা। সেখানে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নেতাজির প্রয়াণের পর তাঁর অবশেষ ঠাঁই পায় রেনকোজির শান্ত মন্দিরে।

প্রশ্ন এখন সময়ের কাছে

নেতাজি কি তবে শুধুই ছবির ফ্রেম আর পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস হয়ে থাকবেন? নাকি তাঁর রক্তমাংসের শেষ স্মৃতিটুকু নিজের দেশের মাটিতে পবিত্র গঙ্গাজলে ধুয়ে মুছে চিরশান্তি পাবে? কন্যা অনিতার এই বিনীত আরজি আজ প্রতিটি দেশপ্রেমিক ভারতীয়ের কাছে এক কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার ১২৯তম জন্মবর্ষে দাঁড়িয়ে ভারত সরকার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Advertisements