কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। এক রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারই বাংলাদেশ সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ সীমান্ত বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ করছে না। তাঁর মতে, এই কারণেই রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বিষয়টি ক্রমশ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
অমিত শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করত, তাহলে অনুপ্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা যেত।” তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—ত্রিপুরা, অসম, রাজস্থান, পাঞ্জাব, কাশ্মীর ও গুজরাটের সীমান্তে যেখানে অনুপ্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়েছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে কেন তা সম্ভব হচ্ছে না? তাঁর দাবি, ওই রাজ্যগুলিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গে তা অনুপস্থিত।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ মুখ্যমন্ত্রীর “নজরদারির মধ্যেই” ঘটছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করার জন্যই অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। অমিত শাহের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিজেপির আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান ইস্যু হবে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া। তাঁর ভাষায়, “পরবর্তী নির্বাচন অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনুপ্রবেশকারীদের অপসারণের প্রশ্নেই লড়া হবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে বিজেপি এই ইস্যুকেই রাজনৈতিকভাবে সামনে রেখে ভোটের ময়দানে নামবে।
অমিত শাহ জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ ঘটছে তা শুধু পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা নয়, বরং সমগ্র দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাঁর মতে, অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অপরাধমূলক কার্যকলাপ বাড়ছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বল হচ্ছে। তাই এই সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাজেও নানা বাধা সৃষ্টি করছে। সীমান্তে রাস্তা, আলো, নজরদারি ব্যবস্থা এবং বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি না দেওয়ার ফলে বিএসএফ কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না বলে তাঁর দাবি। অমিত শাহের মতে, যদি রাজ্য সরকার সহযোগিতা করে, তাহলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই দাবি করে আসছে যে সীমান্তরক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব এবং রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেয় না। তবে অমিত শাহের এই বক্তব্য বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে অনুপ্রবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে কেন্দ্রীয় ইস্যু করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করা হচ্ছে।
