
তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত এবার আইনি মোড় নিল। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টেনে উসকানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর বিরুদ্ধে শুক্রবার নরেদ্রপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেছে তৃণমূল। অভিযোগকারী দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তন্ময় ঘোষের দাবি, মালব্যর এই মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ
সম্প্রতি বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির ভিডিও শেয়ার করে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন অমিত মালব্য। তিনি লেখেন, “ইসলামি মৌলবাদীদের হাতে ঢাকার ছায়ানট ভবনের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়া আসলে একটি সতর্কবার্তা। চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দিলে এভাবেই সমাজ ধ্বংস হয়।” এরপরই সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলাও একই পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মালব্য সতর্ক করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর এই শাসন চললে বাংলার পরিস্থিতি হবে “অপরিবর্তনীয়”।
তৃণমূলের অভিযোগের প্রধান দিকগুলি: Amit Malviya FIR TMC
মালব্যর মন্তব্য ভারতের সার্বভৌমত্ব ও বৈদেশিক সম্পর্কের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বাংলাদেশের সহিংসতাকে বাংলার শাসনের সাথে তুলনা করে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পোস্ট করা হয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ তাঁর অভিযোগে প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই ধরণের মন্তব্য কি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) বা বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সমর্থন করে? তিনি বলেন, যখনই জাতীয় স্বার্থ বা বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয় এসেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা দলের ঊর্ধ্বে উঠে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মালব্যর এই ধরণের “রাস্তার রাজনীতি” দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের ক্ষতি করছে বলে তিনি দাবি করেন।
“বাংলাদেশের মতো একটি সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ইস্যুকে বাংলার ভোট রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।” — তন্ময় ঘোষ, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, তৃণমূল কংগ্রেস।
বিজেপির অবস্থান ও ২০২৬-এর লক্ষ্য
বিজেপি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, ওপার বাংলার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরা কোনো অপরাধ নয়। তবে অমিত মালব্যর ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই সতর্কবার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি “বাংলাদেশ ও অনুপ্রবেশ” ইস্যুকেই তাদের প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার করতে চাইছে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
নরেদ্রপুর থানা অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটির ফরেনসিক পরীক্ষা এবং এর আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আপনি কি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল বা বিজেপি নেতৃত্বের কোনো অফিসিয়াল ভিডিও বা প্রেস কনফারেন্সের সারাংশ দেখতে চান?
Amit Malviya-র মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল এই ভিডিওটি অমিত মালব্যর করা বিতর্কিত পোস্ট এবং তার পাল্টা কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে।










