‘দাদা’র সঙ্গে বিয়েতে নারাজ, ধর্ম বদলে পড়শিকে বিয়ে সাকিনার

উত্তরপ্রদেশের আগ্রার (Agra) এক তরুণীর দাবি, পরিবারের চাপে নিজের দাদার সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করা হচ্ছিল তাঁকে। সেই চাপ থেকে মুক্তি পেতে বাড়ি ছেড়ে ধর্ম পরিবর্তন করে প্রতিবেশী যুবককে বিয়ে করেন তিনি। ঘটনাটি নারী স্বাধীনতা, আন্তঃধর্ম বিবাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

agra-woman-refuses-forced-marriage-converts-religion-marries-neighbour

জোরপূর্বক পরিবারের মধ্যেই বিয়ের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। উত্তরপ্রদেশের আগ্রা (Agra) থেকে উঠে আসা এক তরুণীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে ও রাজনৈতিক মহলে। অভিযোগ অনুযায়ী, আগ্রার বাসিন্দা সাকিনা খানকে পরিবারের তরফে জোর করে নিজের দাদার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাকিনা বাড়ি ছেড়ে পালান এবং পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘সোনম যাদব’ নামে এক হিন্দু যুবক, পড়শি সোনু যাদবকে বিয়ে করেন। মন্দিরে সম্পন্ন হওয়া সেই বিয়ের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয় এই ঘটনা।

সাকিনার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর উপর পারিবারিক চাপ ছিল। তিনি জানান, পরিবারের কিছু সদস্য ধর্মীয় ও সামাজিক রীতির অজুহাতে তাঁকে এমন এক সম্পর্কে বাধ্য করতে চাইছিলেন, যা তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরোতেই তিনি বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে নিজের পরিচয় বদলে সোনম যাদব নামে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন এবং প্রতিবেশী সোনু যাদবের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

   

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সাকিনা—বর্তমানে সোনম—হিন্দু বিবাহরীতিতে মঙ্গলসূত্র পরিধান করছেন, সিঁথিতে সিঁদুর পরানো হচ্ছে। এই দৃশ্য অনেকের কাছে তাঁর নতুন জীবনে প্রবেশের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনেকে এটিকে নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও তথাকথিত ক্ষতিকর প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। একদিকে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ঘটনাটিকে ‘ঘর ওয়াপসি’ বলে অভিহিত করে উদযাপন করেছে। তাঁদের বক্তব্য, সাকিনা স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করেছেন এবং নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন। অন্যদিকে বহু সমাজকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠন এই ধরনের উদযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক রঙে রাঙানো ঠিক নয়।

একাধিক নেটিজেন আবার দম্পতির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অতীতে আন্তঃধর্ম বিবাহের ক্ষেত্রে হুমকি, সামাজিক বয়কট বা হিংসার ঘটনাও সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাকিনা ও সোনুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব বলে মনে করছেন অনেকে। এখনও পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি না এলেও, বিষয়টি নজরে রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এই ঘটনাকে ঘিরে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে—ভারতে আন্তঃধর্ম বিবাহ নিয়ে সমাজের দ্বিচারিতা। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, একদিকে ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে প্রতিবাদ হয়, অন্যদিকে ধর্ম বদলে হিন্দু বিয়ে হলে তাকে উদযাপন করা হয়। এই দ্বিমুখী মনোভাবই আসলে সমস্যার মূল বলে মত বিশ্লেষকদের।

আইনজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক কোনও নারী বা পুরুষ যদি স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করেন এবং বিয়ে করেন, তবে তা আইনত অপরাধ নয়। তবে যদি জোরপূর্বক বিয়ে বা হুমকির অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তা গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে। সাকিনার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মত তাঁদের।

সব মিলিয়ে, সাকিনার জীবনঘিরে এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত প্রেম বা বিয়ের গল্প নয়। এটি নারী স্বাধীনতা, সামাজিক চাপ, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক ব্যাখ্যার এক জটিল চিত্র তুলে ধরছে। আগামী দিনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন