বাংলাদেশে হিন্দু খুনে বিতর্কে ভারতের মুসলিম বিধায়ক

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে (Abu Azmi minority attacks statement)আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা চলছে। ঠিক সেই সময়েই ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করলেন…

abu-azmi-minority-attacks-nitish-kumar-hijab-controversy

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে (Abu Azmi minority attacks statement)আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা চলছে। ঠিক সেই সময়েই ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করলেন সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক আবু আজমি। হিন্দু হোক বা মুসলিম—যে কেউ অন্যায়ের শিকার হলে তার ন্যায়বিচার হওয়া উচিত, এই বার্তা দিতে গিয়েই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আগে কি নিজের দেশের অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করা প্রয়োজন নয়?

Advertisements

আবু আজমির বক্তব্য, “হিন্দু বা মুসলিম—যেই হোক না কেন, কেউ যদি কারও সঙ্গে অন্যায় করে, তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। যেখানে হোক, যার সঙ্গেই হোক, আমরা তার নিন্দা করব।” তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর কথায় স্পষ্ট ক্ষোভ, “কিন্তু তার আগে কি আমার নিজের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলা উচিত নয়? এই দেশ স্বাধীন করতে যাঁদের জন্য মুসলিমরা লড়াই করেছিলেন, যাঁরা কখনও দেশদ্রোহিতা করেননি, আজ তাঁদেরই দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে। এটা কেমন বিচার?”

   

ওষুধ আমদানিতে পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতে আশ্রয় কাবুলিওয়ালাদের

এই মন্তব্যের মাধ্যমে আবু আজমি মূলত ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজের বর্তমান অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর দাবি, দেশের ভেতরে বিদ্বেষমূলক রাজনীতি ও বিভাজনের কারণে বহু নিরীহ মানুষকে অকারণে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেই মনে করেন তিনি।

এর পাশাপাশি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির এই নেতা। ভিডিওতে দেখা যায়, এক অনুষ্ঠানে নীতীশ কুমার এক মহিলার হিজাব সরানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে “সম্পূর্ণ ভুল” বলে আখ্যা দিয়েছেন আবু আজমি।

তিনি বলেন, “নীতীশ কুমার যা করেছেন, তা একেবারেই অন্যায়। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি। একজন মুখ্যমন্ত্রীর মতো উচ্চপদে থাকা ব্যক্তি যদি এমন আচরণ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা হওয়া উচিত।” তাঁর মতে, কোনও নারীর পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে এভাবে হস্তক্ষেপ করা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপি ও শাসক শিবিরের নেতারা আবু আজমির বক্তব্যকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আক্রমণ করেছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির একাংশ মনে করছে, সংখ্যালঘু অধিকার ও নারীর মর্যাদা নিয়ে এই প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবু আজমির বক্তব্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট এক, আন্তর্জাতিক ঘটনাকে সামনে এনে দেশের ভেতরের পরিস্থিতিকে আড়াল করা উচিত নয়; দুই, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের আচরণ আরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। বিশেষ করে ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রশ্নে প্রশাসনিক পদে থাকা নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে যখন ধর্ম, পরিচয় ও জাতীয়তাবাদ ঘিরে সমাজে বিভাজন বাড়ছে, তখন এই ধরনের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে দেশে ন্যায়বিচার কি সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য? আর রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি সত্যিই সেই ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত? সব মিলিয়ে, আবু আজমির মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু অধিকার এবং শাসকদের দায়িত্ববোধ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements