
লখনউ: পরিত্যক্ত ঘর সমেত জমি দান করলেন আবদুল। সেখানে রামলীলার (Ramleela) জন্য মঞ্চ তৈরি হবে। জীবনভর রামলীলায় পাঠ করেছেন। বৃদ্ধ বয়সে রামের নামে উৎসর্গ করলেন শেষ সম্বল। একটাই আশা, জীবদ্দশায় ঈশ্বরের দর্শন।
উত্তরপ্রদেশের ভাদোহির গোপীগঞ্জের বড়গাঁও। এখানকার বাসিন্দা আবদুল রহিম সিদ্দিকি ওরফে কল্যাণ। এলাকায় কল্যাণ দর্জি হিসেবে পরিচিত। রামলীলার বড় ভক্ত। বয়স তিন কুড়ি পেরিয়েছে। এখন আর রামলীলায় পাঠ করতে পারেন না। মনে ভক্তি আছে। রামলীলার প্রবাহ ধরে রাখতে পূর্ব পুরুষের সম্পত্তি দান করেছেন গ্রামের রামলীলা সমিতিকে। আবদুলের কথায়, “কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে রামলীলার মঞ্চের জন্য জমি দান করলাম। আমার একটাই ইচ্ছা, যেখানে এখন রয়েছি সেখানে একবার ভগবানের রথ আসুক। আমি যেন দেখার সুযোগ পাই। আমার ভাইও যেন দেখার সুযোগ পায়।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের এটা প্রায় ২০০ বছরের পুরনো জমি। ছোট থেকে গ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখেছি। আমি রামলীলায় পাঠ করতাম।”
গোপীগঞ্জের বড়গাঁওতে প্রায় ৬হাজার পরিবারের বাস। ছোট থেকেই হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থান দেখেছেন আবদুল। স্থানীয়দের মতে, “১৯৩২ সাল থেকে গ্রামে নিয়মিত রামলীলা হচ্ছে। কিন্তু তার জন্য কোনও স্থায়ী মঞ্চ ছিল না। কল্যাণ দর্জি মহৎ কাজ করেছেন। উনি আগে রামলীলায় পাঠ করতেন। যখন যে চরিত্র পেতেন সেটাই মঞ্চে ফুটিয়ে তুলতেন। বয়স বাড়লে পাঠ করা বন্ধ করেন। তবে রামলীলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঞ্চ পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই ছিল।”
BIG 🚨 70-year-old Abdul Rahim donates his ancestral land for the construction of a permanent Ramlila stage in UP’s Bhadohi.
“I am donating the land willingly, without any pressure”
“It pains me to see Ramlila organisers struggle every year due to the lack of a permanent venue… pic.twitter.com/zJjpEejQTl
— News Algebra (@NewsAlgebraIND) December 23, 2025
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন রামলীলার জন্য একটা স্থায়ী মঞ্চ কতটা জরুরি। রামের নামে রাজনীতি হয় রাজ্যে। কিন্তু রাজনীতির কারবারিরা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। শেষমেশ এগিয়ে এলেন রামভক্ত আবদুল। তাঁর মতে, “এখন ৭০ বছর বয়স হয়েছে। কেউ নেওয়ার নেই, কেউ দেওয়ারও নেই। গ্রামে কোটিপতি ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় আছে। সরকার অল্প জমি দিলেই রামলীলার স্থায়ী মঞ্চ হয়ে যেত। কিন্তু কেউ দেয়নি। শেষমেশ আমিই রামলীলার মঞ্চের জন্য ঘর ভেঙে জমি দিলাম।”
আবদুলের দেওয়া জমিতে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেছে আদর্শ রামলীলা সমিতি। স্থায়ী মঞ্চ তৈরি হয়ে যাবে কয়েক মাসের মধ্যেই। আগামী রাম নবমীতে নয়া মঞ্চেই রামলীলা হবে বলে আশাবাদী রামভক্ত আবদুল।










