
কলকাতা: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র (Muslim organisations condemn Hindu killing)দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে গতকাল। প্রকাশ্য রাজপথের উপর এই ঘটনা মুঠো ফোন ধরেও রাখে কিছু উগ্র মৌলবাদী। সমস্ত নির্মমতার গন্ডি ভেঙে দেওয়া এই দৃশ্য সাড়া ফেলেছে সারা বিশ্বে। বাংলাতেও এর আঁচ পড়েছে।
বিজেপি সহ বাম নেতৃত্ব এই নক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানালেও মুখে কুলুপ এঁটেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মোদীর হিজাব কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রিয়দর্শিনী হাকিমকে রাস্তায় নেমে মশাল মিছিল করতে দেখা গেলেও বাংলাদেশের হিন্দু খুনে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই ঘটনায় তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সংগঠন। তারা স্পষ্ট ভাষায় এই হত্যাকাণ্ডকে শুধু মানবতা-বিরোধী নয়, ইসলাম-বিরোধী বলেও অভিহিত করেছে।
প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে ডায়মন্ড হারবারকে হারাল মোহনবাগান
পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম সংগঠন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “আজকেই নজরে এসেছে যে পড়শি বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু দীপু দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায়। স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করা এই দারিদ্র্যপীড়িত মানুষটির এমন পরিণতি সভ্য সমাজের পক্ষে লজ্জাজনক।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অভিযোগ সত্য হলেও বিচার করার দায়িত্ব আদালতের, জনতার নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যদি কোনও অভিযোগ থেকেও থাকে, তার জন্য দেশের বিচার ব্যবস্থা রয়েছে, আইন-আদালত রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কাজ মানব সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর। ইসলাম কখনও কাউকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিক্ষা দেয় না। বরং এই নৃশংসতা সম্পূর্ণভাবে ইসলাম-বিরোধী।” এই বক্তব্য অনেককেই চমকে দিয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় এমন স্পষ্ট অবস্থান বিরল ঘটনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় মুসলিম সংগঠনগুলির প্রকাশ্য প্রতিবাদ একদিকে যেমন মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বার্তা দিচ্ছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক সম্প্রীতির চিত্রও তুলে ধরছে। যখন শাসক দল কৌশলগত নীরবতা বজায় রেখেছে, তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের এমন অবস্থান রাজনীতির প্রচলিত ছকের বাইরে।
এদিকে, দিপু চন্দ্র দাস ছিলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু সমর্থক। তাঁর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেমন ক্ষোভ বাড়ছে, তেমনই ভারতেও এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে বাংলাদেশ সংলগ্ন সীমান্ত, সংখ্যালঘু প্রশ্ন এবং ভোট রাজনীতি গভীরভাবে জড়িয়ে।
বিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই তৃণমূলের নীরবতাকে কটাক্ষ করে বলেছে, “বাংলাদেশে হিন্দু খুন হলে মুখে কুলুপ এঁটে থাকে শাসক দল।” বাম শিবিরও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত রাজনৈতিক তরজার মধ্যেও মুসলিম সংগঠনগুলির বক্তব্য একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে যেখানে ধর্মের নামে হিংসাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
সমাজবিদদের মতে, এই ধরনের অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ মৌলবাদী হিংসার বিরুদ্ধে যদি ধর্মীয় সমাজের ভেতর থেকেই প্রতিবাদ ওঠে, তবে তা বিভাজনের রাজনীতিকে কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। দিপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়তো আর ফেরানো যাবে না। কিন্তু তাঁর হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে বিচার বনাম জনরোষ, ধর্ম বনাম মানবতা, রাজনীতি বনাম নৈতিকতাসেগুলির উত্তর খোঁজাই এখন সময়ের অপেক্ষা।










