
অসমে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হাতির পালের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে লাইনচ্যুত হল নিউ দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস। ঘটনায় কোনও যাত্রী বা রেলকর্মীর প্রাণহানি না হলেও মৃত্যু হয়েছে অন্তত আটটি হাতির। শনিবার ভোরে অসমের নগাঁও জেলার এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর ২টা ১৭ মিনিট নাগাদ নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের লামডিং ডিভিশনের অন্তর্গত জামুনামুখ–কামপুর সেকশনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাইরাং–নিউ দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ২০৫০৭ ডাউন) লাইনের উপর উঠে আসা হাতির পালের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের জেরে ইঞ্জিন এবং পাঁচটি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলটি গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকা সরকারিভাবে ঘোষিত কোনও হাতির করিডরের অন্তর্গত নয়। তবুও গভীর রাতে লাইনের উপর হাতির উপস্থিতি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের তীব্রতা সত্ত্বেও যাত্রীদের কারও কোনও আঘাত লাগেনি। রেল আধিকারিকদের দাবি, ট্রেনের লোকো পাইলট আগাম হাতিগুলিকে দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক কষেছিলেন। তবে তাতেও সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনায় আটটি হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রেল। আহত হাতির সংখ্যা বা অবস্থা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অ্যাক্সিডেন্ট রিলিফ ট্রেন। লামডিং ডিভিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের জেনারেল ম্যানেজার এবং ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারও ঘটনাস্থলে যান উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজ তদারকিতে।
লাইনচ্যুত কোচগুলি থেকে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে ট্রেনের অন্য কোচে থাকা ফাঁকা বার্থে সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলি আলাদা করে ভোর ৬টা ১১ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দেয়। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গুয়াহাটিতে পৌঁছনোর পর যাত্রীদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করা হবে, তার পর ট্রেনটি নিউ দিল্লির পথে যাত্রা শুরু করবে।
যাত্রী ও তাঁদের আত্মীয়দের সহায়তার জন্য গুয়াহাটি রেলস্টেশনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলি হল—০৩৬১-২৭৩১৬২১, ০৩৬১-২৭৩১৬২২ এবং ০৩৬১-২৭৩১৬২৩।
এদিকে, দুর্ঘটনার জেরে ওই রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সেকশন দিয়ে যাওয়া একাধিক ট্রেন আপ লাইনে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে মেরামতি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্ত সুরক্ষা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরেই স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে।










