মোদী সরকারের কূটনীতিতে ফের কিস্তিমাত ট্রাম্প

নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে ভারত রুশ (Russian oil)অশোধিত তেল আমদানি কমানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ছবিটা একেবারে উল্টো। ভারত রাশিয়ার তেল ছাড়ছে না ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
india-russian-oil-imports-trump-diplomatic-setback

নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে ভারত রুশ (Russian oil)অশোধিত তেল আমদানি কমানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ছবিটা একেবারে উল্টো। ভারত রাশিয়ার তেল ছাড়ছে না শুধু চ্যানেল বদলাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য দেখাচ্ছে, রুশ তেলের একটা বড় অংশ এখন আসছে এমন কিছু অজানা বা কম পরিচিত ট্রেডারদের মাধ্যমে, যাদের আগে ভারতে প্রায় কোনো উপস্থিতিই ছিল না।

এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটা বড় ধাক্কা, কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতকে রুশ তেল কেনা থেকে পুরোপুরি বিরত করা।ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর থেকে ভারতের উপর চাপ বাড়িয়েছে। রুশ তেল কেনার জন্য ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। রোসনেফট এবং লুকোইলের মতো রুশ তেল কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

   

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন এই দেশের তারকা পেসার

ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে আশ্বাস দিয়েছেন রুশ তেল কেনা বন্ধ করার। কিন্তু ভারত সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, এটা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন কোনো তৃতীয় পক্ষের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।এই চাপের মধ্যে ভারতীয় রিফাইনারিরা কৌশল বদলেছে।

রোসনেফটের মতো বড় রুশ কোম্পানির সরাসরি সাপ্লাই কমে গেছে। কিন্তু তার জায়গায় উঠে এসেছে নতুন নতুন ট্রেডার যেমন রাসএক্সপোর্ট, রেডউড গ্লোবাল সাপ্লাই, ভিস্তুলা ডেলটা, ইথোস এনার্জি, আলগাফ মেরিন, স্লাভিয়ানস্ক ইকো ইত্যাদি।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথমার্ধে ভারতের রুশ তেল আমদানির প্রায় ৪৩% এসেছে এমন পাঁচটা ট্রেডারের কাছ থেকে, যারা ২০২৪-২০২৫-এর বেশিরভাগ সময় ভারতে কোনো কার্গোই পাঠায়নি। রাসএক্সপোর্ট একাই ২৫৫,০০০ ব্যারেল প্রতিদিন সরবরাহ করছে, যা ভারতের রুশ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

এই পরিবর্তনের পিছনে কয়েকটা কারণ। প্রথমত, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো। রোসনেফট-লুকোইলের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করলে ব্যাঙ্কিং, শিপিং, ইন্স্যুরেন্সে সমস্যা হয়। তাই নন-স্যাঙ্কশনড এনটিটি বা অজানা ট্রেডারদের মাধ্যমে তেল আসছে। দ্বিতীয়ত, ডিসকাউন্ট এখনও আকর্ষণীয়। রুশ তেল এখনও মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য উৎসের চেয়ে সস্তা। তৃতীয়ত, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা।

দেশ ৮৫% তেল আমদানি করে, তাই সস্তা উৎস ছাড়া মূল্যস্ফীতি বাড়বে, অর্থনীতিতে চাপ পড়বে।ডিসেম্বর ২০২৫-এ রুশ তেল আমদানি কমে তিন বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছিল। কিন্তু জানুয়ারি থেকে নতুন ট্রেডারদের উত্থানে ভলিউম আবার বাড়ছে। কেপলারের অ্যানালিস্ট সুমিত রিতোলিয়া বলেছেন, এটা অস্থায়ী ব্যাহত নয় সাপ্লাই চেইন রি-অর্গানাইজ হচ্ছে।

নন-স্যাঙ্কশনড সাপ্লায়ার, শ্যাডো ফ্লিট, শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার এসবের মাধ্যমে তেল আসা অব্যাহত থাকবে। রিলায়েন্সের মতো বড় কোম্পানি রোসনেফট থেকে সরাসরি কেনা কমিয়েছে, কিন্তু অন্যান্য স্টেট-ওনড রিফাইনারি যেমন আইওসি, বিপিসিএল নন-স্যাঙ্কশনড সাপ্লায়ার থেকে কিনছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google