নয়াদিল্লি: বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদক দেশ ভারত। (India rice export)এবার ভারতে উৎপন্ন অতিরিক্ত খাদ্যশস্যকে মানবিক সাহায্য ও কৌশলগত কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সংঘাতে জর্জরিত ইরানে মানবিক কারণে অতিরিক্ত চাল পাঠানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গম রফতানির জন্য মিশর, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে গুরুতর আলোচনা হয়েছে।খাদ্য কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই)-এর গুদামগুলোতে বর্তমানে চাল ও গমের বিপুল উদ্বৃত্ত মজুত রয়েছে। পঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো খাদ্যশস্যের প্রধান উৎপাদন এলাকায় নতুন ফসল আসার আগে এই গুদাম খালি করার জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ শস্য নষ্ট হয়। এই উদ্বৃত্তকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে রফতানি ও সাহায্যের মাধ্যমে দুটি উদ্দেশ্য সাধন করা যাবে গুদামের চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করা।সরকারি পরিকল্পনা অনুসারে, গম মূলত জাহাজে করে মিশর, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমারে পাঠানো হতে পারে। অন্যদিকে চালের ক্ষেত্রে ইরানসহ বিভিন্ন দেশে মানবিক সাহায্য হিসেবে চালান করার কথা ভাবা হচ্ছে।
উচ্চমূল্যের বাসমতি চাল ও অন্যান্য প্রিমিয়াম পণ্য বিমানপথে পাঠানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। পিএমও-র বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেছেন, “আমাদের উদ্বৃত্তকে আরও বেশি করে রফতানির মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে। জাহাজে সাধারণ শস্য এবং বিমানে উচ্চমূল্যের পণ্য পাঠিয়ে আমরা দুই দিক থেকেই লাভবান হব।”ইরানের সঙ্গে এই সম্ভাব্য সাহায্যের পিছনে মানবিক দিকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের সংঘাত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নের কারণে ইরানে খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতের এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘খাদ্য কূটনীতি’ বলে উল্লেখ করছেন। একদিকে যেমন দরিদ্র ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোকে সাহায্য করা হবে, অন্যদিকে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। এর আগেও ভারত বিভিন্ন দেশে চাল ও ওষুধ সাহায্য পাঠিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্বৃত্ত ব্যবস্থাপনা ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও জরুরি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় নতুন ফসল তোলার সময় গুদাম খালি না থাকলে কৃষকদের উৎপাদিত শস্য সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া বিশ্ববাজারে চাল ও গমের দাম বাড়ার কারণে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বাড়বে। তবে রফতানির ক্ষেত্রে দেশীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ভারতের ‘অটল’ বিদেশ নীতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন। যেসব দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকটে পড়েছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো ভারতের ঐতিহ্য। একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “খাদ্য আর ওষুধের মাধ্যমে সাহায্য পাঠিয়ে ভারত বিশ্বে ‘বিশ্বগুরু’র ভূমিকা পালন করছে। ইরানের মতো দেশে চাল পাঠানো শুধু মানবিকতা নয়, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেও মজবুত করবে।”




















