নয়াদিল্লি: খালিস্তানিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কানাডাকে কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি৷ ভারত বৃহস্পতিবার কানাডার মাটিতে অবস্থানরত ভারত-বিরোধী চরমপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবারও আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কানাডীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি এই দাবি জানায়।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ভারত তার ভূখণ্ডে সক্রিয় ভারত-বিরোধী চরমপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কানাডা সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছে।”
আরও পড়ুন: সুরিনামে ভারতের বড় কৃষি উদ্যোগ, জয়শঙ্করের বার্তায় গ্লোবাল সাউথে জোর
কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (CSIS)-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে খালিস্তানপন্থী চরমপন্থীদের কানাডার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে সহিংসতার মহিমান্বিতকরণ, ভারতীয় নেতা ও কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে হুমকি, উপাসনালয়ে ভাঙচুর এবং তথাকথিত ‘গণভোট’-এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রণধীর জয়সওয়াল কানাডার প্রতিবেদনে ভারতের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে এখন পর্যন্ত ১১টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। তবে এখনও ১৩টি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, “বাকি জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে ফিরতে পারে, সেজন্য আমরা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।”
নেপালের লিপুলেখ নিয়ে একতরফা দাবির বিষয়ে ভারত স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “একতরফা ও কৃত্রিম ভূখণ্ডগত দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।” নেপাল লিপুলেখকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে কৈলাস মানসরোবর যাত্রার বিরোধিতা করছে।
ব্রিকস ও ভারত-ইইউ সম্পর্ক
ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠকে নেতাদের অংশগ্রহণ এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রস্তাবিত ভারত সফর সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জয়সওয়াল।
এছাড়া ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভারতের এই কূটনৈতিক অবস্থান দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশটি তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো আপস করবে না। কানাডায় খালিস্তানি তৎপরতা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটকে পড়া, নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বিতর্ক এবং ব্রিকস-ইইউ সম্পর্ক — সবকিছু মিলিয়ে ভারতের বহুমুখী কূটনীতি সক্রিয় রয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এই সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে ভারত প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী, কিন্তু নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না।




















