নয়াদিল্লি: আগামী যুদ্ধের প্রস্তুতিতে নয়া চমক মোদী সরকারের। (India Defence)নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মোট ৫,০৮৩ কোটি টাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে একটি হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর সঙ্গে, যার মূল্য ২,৯০১ কোটি টাকা। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় কোস্ট গার্ডের জন্য ছয়টি অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH) মার্ক-৩ (মেরিটাইম রোল) কেনা হবে। অন্য চুক্তিটি রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা জেএসসি রোসোবোরনএক্সপোর্টের সঙ্গে, যার মূল্য ২,১৮২ কোটি টাকা।
এতে ভারতীয় নৌবাহিনীর ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজগুলিতে সারফেস-টু-এয়ার ভার্টিক্যাল লঞ্চ শতিল মিসাইল সিস্টেম সরবরাহ করা হবে।এই দুটি চুক্তিই ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এএলএইচ মার্ক-৩ হেলিকপ্টারগুলি সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে ডিজাইন, ডেভেলপ ও তৈরি করা হয়েছে। এগুলি টুইন-ইঞ্জিনের, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। বর্তমানে কোস্ট গার্ড যে হেলিকপ্টারগুলি ব্যবহার করে, তার থেকে এগুলি অনেক উন্নত।
আরও দেখুন: ভবানীপুরে শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড়, FIR দায়ের করল বামেরা
এই হেলিকপ্টারগুলি শুধু উপকূলভিত্তিক এয়ারফিল্ড থেকে নয়, সমুদ্রের জাহাজ থেকেও অপারেশন করতে পারবে। এর ফলে কোস্ট গার্ডের মেরিটাইম সিকিউরিটি অপারেশন অনেক বেশি কার্যকর হবে।কোস্ট গার্ডের দায়িত্ব শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়। তারা কৃত্রিম দ্বীপ, অফশোর তেল-গ্যাস প্ল্যাটফর্ম, মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা, সমুদ্র পরিবেশ রক্ষা এসব ক্ষেত্রেও কাজ করে। এই নতুন হেলিকপ্টারগুলি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ, মেরিটাইম সার্ভেল্যান্স, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, এমনকি অস্ত্র বহন করে অপারেশন সবকিছুতে সাহায্য করবে।
চুক্তিতে অপারেশনাল রোল ইকুইপমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট প্যাকেজ এবং পারফরম্যান্স-বেসড লজিস্টিকস সাপোর্টও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে হেলিকপ্টারগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও অপারেশনাল প্রস্তুতি দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত হবে।অন্যদিকে, শতিল মিসাইল সিস্টেম ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য একটা বড় শক্তি বৃদ্ধি। এটি একটি শক্তিশালী সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, যা ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেমের মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া যায়।
এর রেঞ্জ ও নির্ভুলতা অনেক বেশি। এই মিসাইলগুলি নৌবাহিনীর ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজগুলিতে মোতায়েন করা হবে, যেমন ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার এবং সম্ভবত এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলিতেও। এর ফলে বিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এমন বিভিন্ন এরিয়াল থ্রেটের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা স্তর অনেকটা মজবুত হবে। এটি একটা লেয়ার্ড এয়ার ডিফেন্স আর্কিটেকচার তৈরি করবে, যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, সব আবহাওয়ায় কার্যকরী এবং স্পর্শকাতর এলাকায় টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়বে।




















