হুমায়ুন কবীরকে গো ব্যাক স্লোগান, অভিযোগ পুলিশের নীরবতা

হুগলি: ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার মঞ্চেই রাজনীতির উত্তাপ। হুগলির দাদপুর থানার অন্তর্গত পুইনান ইজতেমা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরকে ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Investigation Underway After Police Detain Humayun Kabir’s Son

হুগলি: ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার মঞ্চেই রাজনীতির উত্তাপ। হুগলির দাদপুর থানার অন্তর্গত পুইনান ইজতেমা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) কেন্দ্র করে। ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের সময় তাঁকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, তিনি সম্পূর্ণ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ইজতেমা ময়দানে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। কিন্তু মহেশ্বরপুর এলাকায় ঢোকার মুখেই একদল ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেওয়া হয় এবং একের পর এক ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর পুইনান ইজতেমা ময়দানে পৌঁছনোর পরও ফের একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে বলে দাবি।

   

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কার্যত কোনও হস্তক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। হুমায়ুন কবীরের দাবি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করা হলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা নেয়। তাঁর মতে, শাসকদলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত থাকাতেই প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার একজন নির্বাচিত বিধায়ক। সেখানে আমাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলা হয়েছে যেতে দেওয়া হবে না। পুলিশ সব দেখেও চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। এর একটাই কারণ—শাসকদলের চাপ। এসবের রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইজতেমার আয়োজন কোনও রাজনৈতিক দল করেনি। এটি একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় কমিটির উদ্যোগ। স্থানীয় তৃণমূল নেতা ওয়াসিম রেজা বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ইজতেমা আয়োজনের কোনও সম্পর্ক নেই। উনি ঢুকতে পারেননি কিনা, সেটা আয়োজক কমিটির বিষয়। এখানে তৃণমূলকে জড়িয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফের আলোচনায় এসেছে হুমায়ুন কবীর ও পুলিশের সাম্প্রতিক সংঘাত। কিছুদিন আগেই শক্তিনগর থানার পুলিশের সঙ্গে তাঁর ও তাঁর ছেলের বচসা হয়। নিরাপত্তারক্ষী পুলিশকর্মীকে মারধরের অভিযোগে তাঁর ছেলে রবীন কবীরকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, হুমায়ুন কবীর ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এছাড়াও সম্প্রতি দুর্গা অঙ্গনের ভূমি প্রস্তর স্থাপন ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “সরকারি অর্থে ধর্মীয় পরিকাঠামো তৈরি করা অনুচিত। বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকার নিজেই সেই পথে হাঁটছে। আমরা মন্দিরের বিরোধী নই, কিন্তু সরকারি টাকার অপব্যবহার মানা যায় না।”

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google