ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ঘটনা (Bangladesh)আরও একবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত-সংশ্লিষ্ট চরমপন্থীদের একটি দল একজন মানসিক প্রতিবন্ধী হিন্দু কিশোরকে নির্মমভাবে মারধর করছে। অভিযোগ, তাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে চিহ্নিত করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও জামাত সমর্থকরা অভিযোগ করেছে এই প্রতিবন্ধী কিশোরের পকেটে একটি হলুদ কাপড় পাওয়া গিয়েছে যা হিন্দু ধর্মের চিহ্ন। কেন তার পকেটে হিন্দু ধর্মের এই চিহ্ন থাকবে এই অপরাধেই তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অত্যাচারিত কিশোরের নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সে কোনো প্রতিরোধ করতে পারছে না, শুধু কাঁদছে আর মাথা নিচু করে সহ্য করছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের সাহসী হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো এই কিশোরের প্রাণই চলে যেত। একজন সাংবাদিক পরে বলেছেন, “আমরা না থাকলে ওকে ওরা মেরে ফেলত। এটা নেহাতই ঘৃণার খেলা।”
‘মুসলিমদের যত পারেন বঞ্চিত করুন!’ মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানে বিতর্ক
সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিড় সরিয়ে কিশোরটিকে উদ্ধার করেন এবং নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এই ঘটনা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি নতুন অধ্যায়।বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-এর আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তুলে হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এই কিশোরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ তাকে আওয়ামী লীগপন্থী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সে কোনো রাজনৈতিক কথা বলতে পারে না, এমনকি নিজের নামও স্পষ্ট করে বলতে অসুবিধা হয়।
তবু চরমপন্থীরা তাকে ছাড়েনি।জামায়াতে ইসলামীর নাম এই ধরনের ঘটনায় বারবার উঠে আসছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই দলটির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রভাব বাড়ছে বলে অনেকে মনে করছেন। এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন, এটা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয় এটা সংগঠিত ঘৃণার প্রকাশ।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছে।এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকরা উদ্ধার না করলে কী হতো, তা ভাবলেই শিউরে ওঠা যায়। কিন্তু পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসন কেন সময়মতো হস্তক্ষেপ করেনি? অনেকে বলছেন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের নীরবতা উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, এমন ঘটনা বন্ধ না হলে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ভেঙে পড়বে।




















