আবারও একই দৃশ্য। আবারও মাঠের মাঝখানে প্রকাশ্য অসন্তোষ। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা-র আচরণ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হল, যখন লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) হেরে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস-এর বিরুদ্ধে। হারটা বড় নয়, কিন্তু ঘটনাটা বড় হয়ে দাঁড়াল ম্যাচ-পরবর্তী মুহূর্তে। মাত্র ১৪১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করেছিল লখনউ। এই স্কোরে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য প্রয়োজন ছিল নিখুঁত বোলিং ও আগ্রাসী ফিল্ডিং। কিন্তু সেই তীব্রতা দেখা গেল না। অন্যদিকে দিল্লির ব্যাটাররা ধীরে-সুস্থে ম্যাচ এগিয়ে নিয়ে যায়। সমীর রিজভি এবং ট্রিস্টান স্টাবস-এর ব্যাটে ভর করে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
কিন্তু ম্যাচের পর যা ঘটল, সেটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাঠেই অধিনায়ক ঋষভ পন্থ এবং কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার-এর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় গোয়েঙ্কাকে। সেই কথোপকথনের ভঙ্গি ও পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট, এটি কোনও সাধারণ আলোচনা নয়। পন্থকে বেশ অস্বস্তিতে দেখা যায়, আর ল্যাঙ্গারও আলোচনায় যোগ দেন। পুরো ঘটনাটির ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা সঙ্গে সঙ্গেই মনে করতে শুরু করেন গত বছরের সেই ঘটনা, যখন কেএল রাহুল-এর সঙ্গে একইভাবে মাঠে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন গোয়েঙ্কা। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-এর বিরুদ্ধে হারের পর সেই ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। এক বছর পর আবার একই ছবি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে—দলের ভেতরের বিষয় কি এভাবেই প্রকাশ্যে আসা উচিত? ম্যাচের পর অবশ্য নিজের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা লুকোননি পন্থ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এত কম রান করে জেতা কঠিন। তাঁর মতে, ১৪০-এর আশেপাশে স্কোর হলে প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই চালিয়ে যেতে হয় এবং বিপক্ষ যদি স্বাভাবিক খেলাই খেলে, তবে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি আরও জানান, পাওয়ার প্লেতে কয়েকটি উইকেট পেলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত।
হার নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পন্থ ব্যাটারদের দিকেই আঙুল তোলেন। তাঁর মতে, শুরুতে পিচ থেকে বোলাররা কিছুটা সাহায্য পেলেও ব্যাটাররা বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারেননি। ফলে দলের রান যথেষ্ট বাড়েনি। তিনি বলেন, যখন স্কোর কম হয়, তখন অধিনায়ক হিসেবে অনেক সময় অপ্রচলিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়—যেমন পার্ট-টাইম বোলার ব্যবহার করা। নিজের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়েও খুব বেশি মাথা ঘামাতে চান না পন্থ। তাঁর লক্ষ্য এখন সামনে এগোনো এবং পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো। তবে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক দলকে কতটা প্রভাবিত করবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।




















