গাজিয়াবাদ গুপ্তচর কাণ্ডে পাকিস্তানের বড় ষড়যন্ত্র ফাঁস, সিগন্যাল অ্যাপে চাঞ্চল্য

গাজিয়াবাদ: পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার (Ghaziabad Spy Case) অভিযুক্তদের সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। সূত্রের খবর, দেশজুড়ে একটি বড় ষড়যন্ত্রের আঁচ ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
ghaziabad-spy-racket-pakistan-link-signal-app-investigation

গাজিয়াবাদ: পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার (Ghaziabad Spy Case) অভিযুক্তদের সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। সূত্রের খবর, দেশজুড়ে একটি বড় ষড়যন্ত্রের আঁচ পাওয়া গিয়েছে এবং শীঘ্রই আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে। মামলাটি এখন এতটাই সংবেদনশীল যে, স্থানীয় পুলিশ ও এসআইটি-র সঙ্গেও সব তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে না। এনআইএ-র নেতৃত্বে তদন্ত চলছে, সঙ্গে সহায়তা করছে আর্মি ইন্টেলিজেন্স, আইবি এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী।

   

ডিআরডিও, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট ও অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতে অনুসন্ধান

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিআরডিও, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এবং কর্ণাটক-মহারাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে পাকিস্তান ছাড়াও নেপাল, যুক্তরাজ্য, দুবাই, মালয়েশিয়া ও কানাডার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা সিগন্যাল অ্যাপ ব্যবহার করছে

সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা দরিদ্র ও অশিক্ষিত যুবকদের নিয়ে একটি আলাদা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। গুপ্তচরবৃত্তির পাশাপাশি দেশজুড়ে একটি ডিজিটাল ‘স্লিপার সেল’ও গড়ে তোলা হয়েছে। হ্যান্ডলাররা যোগাযোগের জন্য ‘সিগন্যাল’ অ্যাপ ব্যবহার করছেন, যেটির উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অভিযুক্তরা স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায় তাদের ছবি তোলা, ক্যাপশন লেখা বা জিপিএস লোকেশন পাঠানোর ক্ষমতা ছিল না। তাই নেতা সরফরাজ ওরফে সরদার ওরফে জোরা সিং নিজে ভিডিও কল করে তাদের মোবাইলে ‘গুগল ল্যাট লং’ অ্যাপ ইনস্টল করে দিতেন। এই অ্যাপে ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

নেতার অশ্লীল আচরণে অনেক নারী গ্রুপ ছাড়েন

সরফরাজের প্রেমিকা সানে ইরাম ওরফে মেহক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে তাতে সরফরাজকে যুক্ত করেন। সরফরাজ গ্রুপের হিন্দু নারীদের ভিডিও কল করে টাকার বান্ডিল দেখাতেন এবং টাকা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অশ্লীল আচরণ করতেন। অনেক নারী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে অতিষ্ঠ হয়ে বেশ কয়েকজন নারী গ্রুপ ছেড়ে দেন এবং ইরাম সব গ্রুপ ডিলিট করে দেন।

তদন্ত এখনও চলছে, আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, এই ষড়যন্ত্র এখনও পুরোপুরি ফাঁস হয়নি। তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। শীঘ্রই আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। গাজিয়াবাদের এই গুপ্তচরবৃত্তি কেলেঙ্কারি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google