থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

এ পৃথিবী একবারই পায় তাঁকে। সুরের ঈশ্বরী তিনি, ছদ্মবেশেই যেন এ পৃথিবীকে উপহার দিয়ে গেলেন সংগীতের প্রচুর ভাঁড়ার। কিন্নরকণ্ঠী লতা মঙ্গেশকরেরও পার্থিব অধ্যায়ে আজ নেমে এল যবনিকা। রইল পরে কিছু স্মৃতি

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

   

৩০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। রেখে গেলেন তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি এবং লক্ষ লক্ষ অনুরাগীকে। ১৯৭৪ সালে সবচেয়ে বেশি গানের শিল্পী হিসেবে গিনেস বুকে স্থান পান লতা। নব্বই দশকে মোজার্ট অব মাদ্রাজ খ্যাত এ আর রাহমান ও প্রয়াত গজল সম্রাট জগজিৎ সিয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পরিচালক যশ চোপড়ার প্রায় সব ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিতা হন তিনি।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

২৮ সেপ্টেম্বর ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারান। তার আগে অবশ্য বাবার হাত ধরেই অভিনয় এবং গান শিখতে শুরু করে দিয়েছিলেন। ১৩-১৪ বছর বয়সেই প্রথম বার সিনেমায় গান গাওয়া।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

১৯৪২-এ মরাঠি ছবি ‘কিতী হসাল’-এ প্রথম গান রেকর্ড করেন লতা। ১৯৪৫-এ ‘নবযুগ চিত্রপট’ মুম্বই পাড়ি দেয়। লতাজির প্রথম উপার্জন ছিল ২৫ টাকা। প্রথম বার মঞ্চে গাওয়ার জন্য লতা ওই ২৫ টাকা পান।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

মুম্বই যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালে প্রথম হিন্দি ছবিতে গান। ‘মজবুর’ ছবিতে। ভারতের ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। তবে হিন্দি ও মারাঠি ভাষায় তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যাই বেশি।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

লতাকে প্রথম হেমা বলে ডাকা হত। আগের নাম হেমা থাকলেও, বাবার ‘ভাব বন্ধন’ নাটকের ‘লতিকা’র চরিত্রে প্রভাবিত হয়ে হেমার নাম বদল করে রাখা হয় লতা। যে নাম পরে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে। ভারতরত্ন হয়েছেন।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

ছোটবেলা থেকেই জীবনযুদ্ধ। অর্থের তাগিদেই ছবিতে অভিনয় করতে হয়েছিল। ‘ফিল্মে অভিনয় তেরো বছর বয়সে। ওই মেকআপ আলো লোকজন গ্ল্যামার একদম ভাল লাগেনি আমার! তাই আর অভিনয় করার কথা ভাবিনি’— পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অভিনয় প্রসঙ্গ এলে এ কথাই বলেছেন লতা মঙ্গেশকর।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

১৯৫২ সালে বিপ্লবী হেমেন গুপ্ত তৈরি করেন হিন্দী ছায়াছবি- আনন্দমঠ। সুরকার হেমন্ত কুমার। লতা তাদের কথায় রাজি হননি ওই ছবিতে গান গাইতে। অগত্যা হেমন্তবাবু গেলেন লতার কাছে। লতা তাঁকে দেখে বললেন, আপনার নাম শুনেছি। রাজি হয়ে গেলেন গাইতে ‘বন্দেমাতরম’। ২১টি টেকের পরে ওই গান রেকর্ড হল। এখনও পর্যন্ত ওই গানটি প্রায় দেড়শটি বিভিন্ন সুরে তৈরি হয়েছে। কিন্তু লতার বন্দেমাতরম হেমন্ত কুমারের সুরে আজও এক নম্বর।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

বাংলা ছিল তাঁর ভালবাসার জায়গা। কিশোরকুমার আর হেমন্তদা ছিলেন তাঁর রাখি ভাইয়া। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যাবতীয় গসিপ উড়িয়ে দিয়েছিলেন সুর সম্রাজ্ঞী। হেমন্ত কন্যা রাণুকে নিজের হাতে সাধ খাইয়েছিলেন।

থেমে গেল কোকিলের সুর, স্মৃতির পাতা থেকে সুরসম্রাজ্ঞীর কিছু ছবি ও অজানা কথা

ছদ্মনামে গানের পরিচালনাও করেছেন তিনি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বার বার যখন ‘আনন্দ ঘন’ নামের কাউকে ডাকা হচ্ছিল, ডকুমেন্ট বলছিল তিনি এখানে উপস্থিত, কিন্তু কেউ পুরস্কার নিতে উঠছিল না স্টেজে। অবশেষে লতা উঠে পুরস্কার নেন। মারাঠি চলচ্চিত্রের রহস্যময় সঙ্গীত পরিচালক আনন্দ ঘন-র রহস্য এ ভাবেই সবার সামনে আসে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন