
কলকাতা: বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ, ‘খুকুমণি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে যিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, সেই অভিনেত্রী দীপান্বিতা রক্ষিত (Dipanwita Rakshit wedding) বাস্তব জীবনেও শুরু করলেন নতুন অধ্যায়। কয়েকদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাঁর বিয়ে নিয়ে চলছিল জোর জল্পনা। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই সুখবর দিলেন দীপান্বিতা। গত ১৫ ডিসেম্বর তিনি আইনি বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।
কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে, অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ সারেন অভিনেত্রী। কোনও আড়ম্বর নয়, বরং সীমিত আয়োজনেই নিজের জীবনের বিশেষ দিনটি উদযাপন করেছেন তিনি। স্বামী গৌরবের সঙ্গে ম্যাচিং পোশাকে স্নিগ্ধ ও শান্ত রূপে ধরা দিয়েছেন দীপান্বিতা। এই বিয়ের মুহূর্তে অভিনেত্রীর চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির ছাপ।

দীপান্বিতার স্বামী গৌরব বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি পেশায় একজন পশুচিকিৎসক। তবে পেশা আলাদা হলেও দু’জনের মানসিক মিলই যে তাঁদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি, তা স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী নিজেই। দীপান্বিতার কথায়, গৌরব একজন শান্ত, বোঝদার মানুষ, যিনি তাঁকে যথেষ্ট সম্মান ও স্বাধীনতা দেন।
২০২১ সাল থেকে একে অপরকে চিনলেও, গত এক বছর ধরেই সম্পর্কে ছিলেন দীপান্বিতা ও গৌরব। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বোঝাপড়ার পরেই জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। রেজিস্ট্রি বিয়ের দিন আংটি বদল, মালাবদল এবং আইনি সই সব মিলিয়ে একান্ত আপনজনদের নিয়েই সেলিব্রেট করেন তাঁরা। অতিথির সংখ্যা ছিল মাত্র ২২ থেকে ২৪ জন।

রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পরেই অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয় কবে হবে সামাজিক বিয়ে? এই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন দীপান্বিতা। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সামাজিক বিয়ে এখনই নয়। তাঁর কথায়, ২০২৮ সালের আগে কোনও ভাবেই সোশ্যাল ম্যারেজের পরিকল্পনা নেই। আপাতত কাজের দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি।
নিজের পেশার কাউকে না বেছে ভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধা প্রসঙ্গে দীপান্বিতা বলেন, গৌরব একজন পশুচিকিৎসক আর তিনি নিজে প্রাণীপ্রেমী। এই জায়গাটায় দু’জনের মানসিকতা খুব সহজেই মিলে গিয়েছে। অভিনেত্রীর মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য পেশা নয়, মানুষটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রেজিস্ট্রি বিয়ের আয়োজনেও ছিল দীপান্বিতার ব্যক্তিত্বের ছাপ। খুব বড় অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিমিত ও ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যেই সব কিছু সারতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, খুব সীমিত জিনিসের মধ্যেই কাজ করতে তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
মজার বিষয় হল, বিয়ের ভোজে একেবারেই বাঙালি খাবার ছিল না। কাবাব, বিরিয়ানি, আইসক্রিম ও মিষ্টিতেই অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। যদিও শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে এখনই হানিমুন বা বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না দম্পতি। তবে সময় বের করে নিজেদের মতো করে কোথাও ঘুরতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন দীপান্বিতা।
নতুন জীবনের শুরুতে অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় আপ্লুত অভিনেত্রী। ছোট পরিসরে হলেও এই বিয়ে যে তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, তা স্পষ্ট তাঁর কথাতেই।




