দেশের মেডিকেল শিক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ

ভারতের পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল শিক্ষা (medical education)ব্যবস্থা এখন একটা বড় বিশৃঙ্খলার মুখে। ২০২৫-২৬ সেশনে দেশে মোট পিজি মেডিক্যাল সিটের সংখ্যা ৬৭,০০০-এরও বেশি, কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক…

india-pg-medical-education-crisis-2025

ভারতের পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল শিক্ষা (medical education)ব্যবস্থা এখন একটা বড় বিশৃঙ্খলার মুখে। ২০২৫-২৬ সেশনে দেশে মোট পিজি মেডিক্যাল সিটের সংখ্যা ৬৭,০০০-এরও বেশি, কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক সিটের মধ্যে হাজার হাজার খালি পড়ে রয়েছে।

Advertisements

এনইইটি পিজি ২০২৫-এ প্রায় ২.৩ লক্ষ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক কাটঅফ ছিল জেনারেল/ইডব্লিউএস-এর জন্য ২৭৬ মার্কস (৫০তম পার্সেন্টাইল), জেনারেল পিডব্লিউবিডি-র জন্য ২৫৫ এবং এসসি/এসটি/ওবিসি-র জন্য ২৩৫।

   

কি কারণে ১২ মুসলিম গ্রামবাসীকে তুলে নিয়ে গেল যোগী পুলিশ

কিন্তু দুই রাউন্ড কাউন্সেলিং শেষে প্রায় ১৮,০০০ সিট খালি থাকায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও এনবিইএমএস (NBEMS) কাটঅফকে ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।তৃতীয় রাউন্ডের জন্য জেনারেল/ইডব্লিউএস-এর কাটঅফ ৭ম পার্সেন্টাইলে নামিয়ে ১০৩ মার্কস করা হয়েছে, জেনারেল পিডব্লিউবিডি-র জন্য ৫ম পার্সেন্টাইলে ৯০ মার্কস এবং এসসি/এসটি/ওবিসি-র জন্য পার্সেন্টাইল শূন্যে নামিয়ে -৪০ মার্কস (নেগেটিভ মার্কিংয়ের কারণে) পর্যন্ত যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে এখন যে কোনো প্রার্থী, এমনকি নেগেটিভ স্কোর করলেও, কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য স্পষ্ট সিট নষ্ট না হয়ে যাক। কিন্তু এতে চিকিত্সক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ।সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, খালি সিটের অর্ধেকেরও বেশি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে। এখানে ফি ২৫ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি।

অনেক প্রার্থী এই উচ্চ ফি, নন-ক্লিনিক্যাল ব্রাঞ্চ (যেমন অ্যানাটমি, ফিজিওলজি), দূরবর্তী কলেজ বা খারাপ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কারণে সিট নেন না। ফলে সরকারি সিটও কিছু খালি থাকে, কিন্তু প্রাইভেট কলেজের সিটই সবচেয়ে বেশি অপূর্ণ। চিকিৎসক সংগঠনগুলো বলছে, এই কাটঅফ কমানো মেরিটকে খাটো করে দিচ্ছে।

যোগ্য প্রার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চ স্কোর করেন, কিন্তু নেগেটিভ স্কোরের প্রার্থীরা এখন সুযোগ পাবেন এটা চিকিত্সা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।এনবিইএমএস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, সব প্রার্থী তো এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার, তাই প্রশিক্ষণের যোগ্য। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটা প্রাইভেট কলেজের সিট ভর্তি করার জন্য করা হচ্ছে, যেখানে ফি অত্যধিক এবং কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।

গত কয়েক বছরেও এমন কাটঅফ কমানো হয়েছে, কিন্তু সমস্যা মিটছে না। প্রশ্ন উঠছে কেন এত সিট বাড়ানো হচ্ছে যদি চাহিদা না থাকে? কেন প্রাইভেট কলেজের ফি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না? কেন নন-ক্লিনিক্যাল ব্রাঞ্চে আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেই?

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভারতের মেডিক্যাল শিক্ষায় গভীর সংকট। একদিকে ডাক্তারের অভাব, অন্যদিকে সিট খালি। কাটঅফ কমিয়ে সিট ভর্তি করলে স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চিকিত্সকদের মান, রোগীর নিরাপত্তা ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Advertisements