Thursday, February 2, 2023

Economy: সেনসেক্সের ৬০,০০০ এর মাইল ফলক পৌঁছনোর যাত্রাপথ

- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ৬০,০০০এর মাইল ফলক পেরিয়ে গেল শেয়ার সূচক সেনসেক্স ৷ তবে সূচকটি ১৯৯০ সালের ২৫ শে জুলাই, ১,০০০ পয়েন্ট এর মাইল ফলক অতিক্রম করেছিল৷ তারপরে শুক্রবার প্রথমবারের মতো ৬০,০০০-এ পৌঁছে গিয়ে বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স একটা ঐতিহাসিক তথা স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হল। সেনসেক্সের এই ১,০০০এর স্তর থেকে এই ৬০,০০০ স্তরে পৌছে বিখ্যাত হয়ে উঠতে ৩১ বছরেরও কিছু বেশি সময় লেগে গিয়েছে।

ভারতে বর্তমান সময়টা শেয়ার বাজারের পক্ষে বেশ ভাল যাচ্ছে ৷ করোনা পরিস্থিতির জন্য দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন আশাব্যঞ্জক না হলেও এই সময়ে শেয়ার সূচকের বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো ৷ শুক্রবারে ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসে একটা বিরল ঘটনা ঘটে গেল। গত দেড় সপ্তাহে এই নিয়ে টানা তিনবার শেয়ার মার্কেটে নতুন রেকর্ড তৈরি হল। গত সপ্তাহে শেয়ার বাজারে ঝড় তোলে সেনসেক্স-নিফটি। সেনসেক্স নিজের সর্বোচ্চ রেকর্ড অর্থাৎ ৫৯ হাজারের স্কোর ভেঙে গিয়েছিল গত সপ্তাহেই। বেশ কিছুটা বেড়ে গতকালেই সেনসেক্স প্রায় ৬০ হাজার ছুঁয়ে ফেলেছিল । তখন অল্পের জন্য সেখান থেকে দূরে থামতে হয়েছিল।

তবে আরও একটু পিছনে ফিরে তাকাই তাহলে দেখা যাবে গত কয়েক বছর ধরে,এই সূচক বেশ কয়েকটি রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড স্তরে উঠে গিয়েছে। এই সূচকটি প্রথমবারের মতো ১০,০০০ এর স্তরে পৌঁছেছিল ২০০৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৷ আর ২০০৭ সালের ২৯ অক্টোবর তারিখে এটির মাত্রা বাড়িয়ে ২০,০০০ এর স্তরে যায় , তারপর ২০১৫ সালের ৪ মার্চ এই বেঞ্চমার্কটি ৩০,০০০-এ গিয়ে ধাক্কা দেয়৷
২০১৯ সালের ২৩ শে মে তারিখে বিএসইর বেঞ্চমার্ক সূচকটি ৪০,০০০ স্তরে উঠে আসে। আর ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি ৫০,০০০ স্তরে পৌছে যায় ৷ মজার বিষয় হল,৫০,০০০ এবং ৬০,০০০ দুটি স্তরে পৌছে যাওয়া গিয়েছে ২০২১ সালে যখন কোরোনা মহামারী গোটা দুনিয়ার অর্থনীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে ৷

- Advertisement -

১৯৯২ সালে হর্ষদ মেহতা কেলেঙ্কারির সাক্ষী থাকা থেকে, ১৯৯৩ সালে মুম্বই এবং বিএসই ভবনে বিস্ফোরণ, কার্গিল যুদ্ধ (১৯৯৯), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতীয় পার্লামেন্টে সন্ত্রাসী হামলা (২০০২), সত্যম কেলেঙ্কারি, বিশ্ব আর্থিক সংকট, নোটবন্দী, পিএনবি কেলেঙ্কারি এবং করোনা মহামারীতে বছরের পর বছর ধরে , বাজারকে অনেক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে, আর শুক্রবার বিএসইর সিইও আশীষ কুমার চৌহানের টুইটে “সেনসেক্সের যাত্রা” সেটারই একটি স্লাইড বলে মন্তব্য করেছেন ।

তবে আবার বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যকর ট্রিগারও বাজারের উন্নতির ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে, যেমন বিশ্বব্যাপী পণ্যের তেজি বাজার, বিশ্বব্যাপী নগদের প্রাচুর্য্য, কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন অনুমোদন এবং টিকা কর্মসূচি চালু করা।

বিএসইর বেঞ্চমার্ক সূচক এই বছর এখন পর্যন্ত ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছরের অগস্টে, শেয়ার বাজার অনেক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত মাসে বিএসইর বেঞ্চমার্ক ৯ শতাংশের বেশি উপরে উঠেছে। বাজারে উল্লেখযোগ্য যাত্রার তাৎপর্য বহন করে, কারণ ২০২০ সালের মার্চ মাসে ইক্যুইটি একেবারে টেইলস্পিনে চলে গিয়েছিল, বিএসইর বেঞ্চমার্ক সেই মাসে ব্যাপকভাবে নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছিল ৮৮২৮.৮ পয়েন্টে বা ২৩ শতাংশ নেমে গিয়ে ছিল সেই মাসে ৷ যেহেতু অর্থনীতিতে করোনা মহামারীর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত বছরে রোলার-কোস্টার যাত্রার মুখোমুখি হওয়ার পর ২০২০ সালে বিএসই বেঞ্চমার্ক ১৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাজারে সেন্টিমেন্ট উজ্জ্বল রয়েছে। কয়েক শতাংশ কমে যাওয়া ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের প্রবেশের জন্য একটি ভাল সুযোগ তৈরি হবে। এই সময় লার্জক্যাপ থেকে মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপে ব্যাপক ভিত্তিক কেনাকাটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে উচ্ছ্বাস অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অবস্থাটা ২০২২ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে। যদিও আবার বাজারে অস্থিরতাও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে৷