বড়দিনের বিকেলে সাফ চ্যাম্পিয়নদের সম্মানিত করল ইস্টবেঙ্গল

সাফ ক্লাব কাপ জয়ের গৌরবময় সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে পঁচিশ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার ও শতবর্ষ স্মারক মুদ্রা তুলে দিয়ে নিজেদের চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের সম্মান জানাল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব (East ...

By Suparna Parui

Published:

Updated:

Follow Us
east-bengal-felicitates-saff-champions-on-christmas-afternoon

সাফ ক্লাব কাপ জয়ের গৌরবময় সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে পঁচিশ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার ও শতবর্ষ স্মারক মুদ্রা তুলে দিয়ে নিজেদের চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের সম্মান জানাল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব (East Bebgal)। মরসুমের শীতলতম দিনের সন্ধ্যায় লাল-হলুদের ঘরে ছিল উষ্ণ আবেগ, গর্ব আর উৎসবের আবহ। লক্ষ্মীবারের ময়দানে আয়োজিত সান্ধ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাফ ক্লাব কাপ জয়ী ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করা হয়।

কাঠমাণ্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক খেতাব জয়ের পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আর অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে কলকাতায় ফিরেছিলেন সুলঞ্জনা রাউত, ফাজিলা ইকওয়াপুট, সৌম্যা গুগুলথরা-সহ গোটা দল। দেশে ফেরার পর ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রথামাফিক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল। সেই দিনই ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, খুব শিগগিরই এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মেয়েদের আর্থিক পুরস্কারে সংবর্ধিত করা হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করল ইস্টবেঙ্গল।

   

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সভাপতি এম এল লোহিয়া, শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিরা এবং লগ্নীকারী সংস্থার প্রতিনিধি সন্দীপ আগরওয়াল। ক্লাবের চেনা পরিবেশে, পরিচিত মুখেদের সামনে এই সম্মান গ্রহণ করতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লাল-হলুদের চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা। মঞ্চে একে একে উঠে ট্রফি, স্মারক ও আর্থিক পুরস্কার গ্রহণের সময় খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ধরা পড়ে দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়ার তৃপ্তি।

এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কঠিন মুহূর্ত পার করার মানসিক দৃঢ়তা। এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপে হৃদয়ভাঙা ফলের পর দল হিসেবে নিজেদের আবার গুছিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু সেই হতাশাকেই শক্তিতে বদলে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল শিবির। সাফ ক্লাব কাপ ছিল নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ, আর সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি লাল-হলুদ ব্রিগেড।

অধিনায়ক ফাজিলা ইকওয়াপুট আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই প্রতিযোগিতা জেতাই আমাদের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত। কারণ আমরা সবাই মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়েছিলাম—প্রতিটি খেলোয়াড়। এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের হতাশার পর দল হিসেবে আমাদের মানসিকভাবে স্থির হতে হয়েছিল। আমরা শুধু জয়ের জন্য নয়, ব্যাজের জন্য, পরিবার হিসেবে একসঙ্গে খেলেছি। পরিবার হিসেবেই আমরা এই ট্রফিটা জিততে চেয়েছিলাম। এএফসির হতাশা ভুলে সামনে যা আছে, সেদিকেই মন দিয়েছিলাম। সবকিছুর জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।”

ফাজিলার কথায় স্পষ্ট, এই সাফল্য শুধুই একটি ট্রফি জয় নয়, বরং দলগত বন্ধন, আত্মবিশ্বাস আর লড়াইয়ের প্রতিফলন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও বার্তা দিল—মহিলা ফুটবল দলের পাশে তারা দৃঢ়ভাবে আছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে লাল-হলুদ মেয়েদের সাফল্য দেখতে চায়।

এই সংবর্ধনা যেন শুধু অতীতের জয় উদ্‌যাপন নয়, বরং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। সাফ ক্লাব কাপ জয়ের এই উষ্ণ স্মৃতি নিয়ে ইস্টবেঙ্গল মহিলা দল এখন প্রস্তুত নতুন চ্যালেঞ্জের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google