গুজরাট ম্যাচের আগেই এই কারণে বিতর্কের মুখে KKR!

আইপিএল ২০২৫(IPL 2025) সিজনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। এইবার তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ভারতের সহকারী কোচের পদ থেকে অভিষেক নায়ারকে (Abhishek Nayar) সরানোর ...

By Subhasish Ghosh

Published:

Follow Us
KKR Branded as IPL 2025 Chokers

আইপিএল ২০২৫(IPL 2025) সিজনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। এইবার তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ভারতের সহকারী কোচের পদ থেকে অভিষেক নায়ারকে (Abhishek Nayar) সরানোর পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আবারও পুরনো দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে সহকারী কোচ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে, এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে বোর্ডের ছাড়পত্রের আগেই নায়ার কেকেআরে যোগ দিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে একাধিক তত্ত্ব এবং বিতর্ক।

অভিষেক নায়ারের ভারতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে পদচ্যুতি

   

ইংল্যান্ড সফরের গম্ভীরের ডেপুটি এই কিংবদন্তি!

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর, ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন গৌতম গম্ভীর। তার সঙ্গে ভারতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে ছিলেন অভিষেক নায়ার। কিন্তু, গম্ভীরের অধীনে প্রথম কিছু মাসে দলের ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায় নায়ারের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি হয়। এমনকি, গম্ভীরের অধীনে ভারতীয় দল ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজে পরাজিত হয় এবং অস্ট্রেলিয়াতেও ভালো ফল পায়নি। এতে চাপের মুখে ভারতীয় বোর্ড নায়ারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

গম্ভীরের দল থেকে ছাঁটাই, কেকেআরে পুনরায় যোগদান

গম্ভীরের দলের ব্যর্থতার পর, নায়ারকে ভারতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে কেকেআরও তার সহকারী কোচের পদে পরিবর্তন আনতে শুরু করে। কেকেআরে নায়ারের সম্পর্ক বেশ পুরনো। ২০১৮ সাল থেকে তিনি কেকেআরে কাজ করছেন, প্রথমে মেন্টর হিসেবে, পরে সহকারী কোচ হিসেবে। গম্ভীরের ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার পর, নায়ার ও কেকেআরের মধ্যে সম্পর্ক আলাদা হয়ে যায়, তবে কেকেআরের সিইও বেঙ্কি মাইসোর ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।

এখন, দুই দিনের মধ্যে কেকেআর তাকে সহকারী কোচ হিসেবে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে, যা ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, বোর্ডের কোনো আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র ছাড়াই কেকেআর নায়ারকে দলে নিয়ে এসেছে।

সুপার কাপে ২৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে বিশেষ চমক দিল ‘কলিঙ্গা ওয়ারিয়র্স’

বোর্ডের নিয়ম ভাঙা কি সত্যিই হয়েছে?

এখনো পর্যন্ত বোর্ডের পক্ষ থেকে নায়ারের কেকেআরে যোগদান সম্পর্কে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ শইকীয়াও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি বলেন, “খোঁজ নিতে হবে, আশা করছি এক-দু’দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।” অর্থাৎ, বোর্ডের নিয়ম ভাঙা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রশ্ন উঠছে—যদি তা হয়, তাহলে কেকেআর কি সত্যিই নিয়ম ভেঙেছে?

নায়ারের দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন: পূর্বসূচনা কি ছিল?

অন্য এক প্রশ্ন উঠছে—নায়ার কি আগে থেকেই জানতেন যে, তাকে ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফ থেকে বাদ দেওয়া হবে? নইলে, কেকেআরের বরুণ চক্রবর্তী তার সঙ্গে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি পোস্ট করার পর, এত দ্রুত কীভাবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল? অনেকেই মনে করছেন, নায়ার হয়তো পূর্বে বোর্ডের সঙ্গে কোনো আলোচনায় ছিলেন এবং তাই তিনি এত দ্রুত কেকেআরের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে পেরেছেন।

কুলিং অফ পিরিয়ড: নায়ার কি বাধ্য?

ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফ থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর, নায়ারকে কুলিং অফ পিরিয়ডে যেতে হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সাধারণত, কোনো কোচ বা সহকারী কোচ যদি জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়েন, তবে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। তবে, নায়ারের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, যেহেতু তিনি মাত্র ১০ মাস ভারতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন, তাই কুলিং অফ পিরিয়ডের প্রয়োজন পড়বে না। তবে, এটি একটি অজানা বিষয় এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কেরালার ম্যাচেই খুলবে ডার্বি দরজা! অস্কারের বক্তব্যে উঠল সেই প্রসঙ্গ

কেকেআরের দলে নায়ারের ফিরে আসা

যদিও এখনো বোর্ডের ছাড়পত্র মেলেনি, তবে কেকেআরে নায়ারের ফেরার ঘটনাটি বেশ আলোচিত। শনিবার, কেকেআরের অনুশীলনে যোগ দেওয়া নায়ারকে প্রধান কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত ও অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা যায়। এই সময়, নায়ারের কেকেআরের সিইও বেঙ্কি মাইসোরের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকার কারণে তার দ্রুত দলে যোগদান একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। সেই অনুযায়ী, সোমবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচে নায়ার কেকেআরের ডাগআউটে উপস্থিত থাকবেন।

বিতর্ক বাড়ছেই

যতদিন যাচ্ছে, কেকেআর এবং নায়ারের ক্ষেত্রে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বোর্ডের নিয়ম ভেঙে দ্রুত নায়ারকে কেকেআরে নেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এমনকি বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনার ফলে কেকেআরের উপর নানা ধরণের চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে, কেকেআরও তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু বোর্ডের অনুরোধ এবং নির্দেশনা অবজ্ঞা করার পর, কেমন হবে তাদের ভবিষ্যত, সেটাই দেখার।

শেষমেশ, এই পরিস্থিতি আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ক্রিকেটের মাঠের মতোই মাঠের বাইরেও অনেক কিছুই চলছে। একে একে সব ঘটনা পরিষ্কার হলে, সবার কাছে তা জানা যাবে। তবে, এখন পর্যন্ত একটাই কথা—নির্দিষ্ট নিয়মের প্রতি সম্মান বজায় রাখা উচিত, বিশেষ করে যখন বিষয়টি জাতীয় দল এবং বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।

Subhasish Ghosh

[email protected]

Follow on Google