Militant Activity: বাংলাদেশি জঙ্গি শিবির চলছে ভারতেই, মোদী-হাসিনাকে বার্তা পূর্বতন সশস্ত্র গোষ্ঠীর

কোনটা সীমান্ত? ঘন জঙ্গলে কেই-বা বলতে পারে। দুর্গম পাহাড়ি টিলা-জঙ্গলের মাঝে মিশে গেছে ভারত ও বাংলাদেশের ভূমিরেখা। এদিক-ওদিক সব এক। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ ও বিজিবি নির্দিষ্ট এলাকা ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us

কোনটা সীমান্ত? ঘন জঙ্গলে কেই-বা বলতে পারে। দুর্গম পাহাড়ি টিলা-জঙ্গলের মাঝে মিশে গেছে ভারত ও বাংলাদেশের ভূমিরেখা। এদিক-ওদিক সব এক। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ ও বিজিবি নির্দিষ্ট এলাকা বরাবর পাহারা দেয়। এর বাইরে ঘন পাহাড়ি বনাঞ্চলের মধ্যে চলছে জঙ্গি শিবির। বাংলাদেশের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের প্রশিক্ষণ (Militant Activity) চলছে ভারতে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

অভিযোগ, মিজোরামে চলছে বাংলাদেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী জনসংহতি সমিতির (JSS) শিবির। এই সংগঠনটি এক সময় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় স্বশাসনের দাবিতে রক্তাক্ত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সংগঠনটি পরে একাধিক গোষ্ঠীতে ভাগ হয়েছে। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষে বারবার রক্তাক্ত হয় বাংলাদেশের উপজাতি বহুল পার্বত্য চট্টগ্রামের এলাকা

   

মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এমএনএফ) একটি প্রাক্তন সশস্ত্র শাখা দাবি করেছে যে বাংলাদেশের চাকমা বিদ্রোহীরা মিজোরামে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। পিস অ্যাকর্ড এমএনএফ রিটার্নিজ অ্যাসোসিয়েশন (PAMRA) অনুসারে, বাংলাদেশি চাকমা বিদ্রোহীরা মিজোরামের লুংলেই জেলা এবং মামিত জেলায় সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

এক নজরে ডনসংহতি সমিতি (JSS)
১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ তৈরির পর পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা স্বশাসনের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলনে নেমেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। টানা রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর সেই সংগঠনটির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ( সন্তু লারমা) ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারে সাথে শান্তি চুক্তি করেন। ততকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন সন্তু লারমা। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি (Chittagong Hill Tracts Peace Accord ) নামে পরিচিত। পরে এই জনসংহতি সমিতি ভেঙে একাধিক পার্বত্য উপজাতি সংগঠন তৈরি হয়। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাতে আগেও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।

অভিযোগ, এই জনসংহতি সমিতি মিজোরামের লুংলেইতে ৬টি স্থানে প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছে। জায়গাগুলি হল, সাল্মস, তারা বন্যা, চুমোচুমি, মালছড়ি (জেএসএস শান্তিবাহিনীর ক্যাডারদের পারিবারিক এলাকা), ভালুকাছড়ি এবং অন্দর মানেক গ্রাম। আর মামিত জেলায় দুটি সক্রিয় শিবির রয়েছে- একটি হল সিলসুরি গ্রাম (কোম্পানি কমান্ডার আলো চাকমা) এবং কমান্ডার বিনন্দ চাকমা৷

PAMRA বলেছে জঙ্গি শিবিরগুলি মিজোরামের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে প্রশিক্ষণ বন্ধ করে জঙ্গিদের ফেরত পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পিস অ্যাকর্ড এমএনএফ রিটার্নিজ অ্যাসোসিয়েশন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে PAMRA এই প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। PAMRA হল প্রাক্তন জঙ্গি গোষ্ঠী যারা মিজোরামের বিচ্ছিন্নতার জন্য সংঘর্ষ করছিল। 1986 সালে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি করেছিল।

বাংলাদেশে চাকমা সংঘাতের মূলে রয়েছে ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনা। বাংলাদেশ ছেড়ে বহু চাকমা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যারা ভারতসহ প্রতিবেশী অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google