কলকাতা: ক্যানিং ও গোসাবায় নির্বাচনী আবহে তৃণমূল ছাড়ার ঢেউ। (Canning Gosaba)দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই দুই বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কর্মী-নেতা দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক হয়েছে তাঁদের। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ ও দলত্যাগের ঘটনা যেন আরও বেড়ে চলেছে।
আজ মঙ্গলবার ক্যানিং ও গোসাবা এলাকায় বিজেপির একটি বড় অনুষ্ঠানে এই যোগদানের ঘটনা ঘটে। শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য, মণ্ডল নেতা ও সাধারণ কর্মীদের বিজেপিতে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা নেতৃত্বও। যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন কয়েকজন তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং দলের সক্রিয় কর্মী।
আরও দেখুনঃ মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা, আমেরিকা–ইরানে বাড়ছে উত্তেজনা
তাঁরা শুভেন্দুর হাত থেকে কমলা পতাকা নিয়ে বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন।যোগদানকারীদের অভিযোগ , “দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির কারণে তারা হতাশ পড়েছেন। সাধারণ মানুষের কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। বিজেপির উন্নয়নমূলক রাজনীতি ও শুভেন্দুবাবুর নেতৃত্বে আমরা আস্থা রাখতে চাই।” আরেকজন পঞ্চায়েত সদস্য জানান, “এলাকায় তৃণমূলের তোলাবাজি, হামলা ও ভয়ের রাজনীতি সহ্য করতে না পেরেই বিজেপি যোগ।
শুভেন্দু অধিকারী এই যোগদানকে “তৃণমূলের ভাঙনের শুরু” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “ক্যানিং-গোসাবার মানুষ আর তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করতে চান না। তাঁরা পরিবর্তন চান। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপির জয়রথ কেউ আটকাতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁরা চান শান্তি ও উন্নয়ন। আমরা সবাইকে স্বাগত জানাই।”
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ক্যানিং ও গোসাবা ঐতিহাসিকভাবে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় স্তরে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, এই যোগদান শুধু সংখ্যাগত লাভ নয়, বরং তৃণমূলের গ্রাসরুট লেভেলে ভাঙনের ইঙ্গিত। গোসাবা ও ক্যানিংয়ের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আরও কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর।




















