এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে S&P গ্লোবাল রেটিংস। সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে, S&P জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নতুন শুল্কগুলো এই অঞ্চলের অর্থনীতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংস্থাটি বিশেষভাবে দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ভারতকে সবচেয়ে বেশি শুল্ক প্রতিশোধের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
S&P গ্লোবাল রেটিংসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত, এবং এই কারণে যদি যুক্তরাষ্ট্র আরও শুল্ক বৃদ্ধি করে, তবে সেগুলি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে।”
দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ভারত এই দেশের মধ্যে অন্যতম। প্রতিবেদনে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সাউথ কোরিয়া, এবং তাইওয়ান দেশগুলির উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অধিক অর্থনৈতিক সংযোগ রয়েছে, তাই এই দেশগুলোই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্র আরও শুল্ক বৃদ্ধি করে।
বিশেষভাবে, S&P বলেছে যে ভারতের এবং জাপানের অর্থনীতি কিছুটা অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত হওয়ায় তারা কিছুটা শুল্কের প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে। তবে, গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে তারা ভারতের মতো সমস্ত বাণিজ্যিক অংশীদারদের উপর শুল্ক আরোপ করবে, যা ভারতসহ বেশ কিছু দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও, ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চীনের আমদানির উপর এবং ২৫ শতাংশ শুল্ক স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির উপর ইতিমধ্যেই আরোপ করা হয়েছে। S&P জানিয়েছে, “আমরা বিশ্বাস করি এটি হয়তো শেষ নয়। কারণ, মার্কিন প্রশাসন অনেক বেশি স্বাধীনতা পায় যে তারা কোন শুল্ক আরোপ করবে এবং এই শুল্ক গুলি একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির জন্য বিপদজনক হতে পারে।”
S&P আরও বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ব্যবস্থা কখনও কখনও গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এই শুল্ক ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও সংকট তৈরি করতে পারে। তবে, কিছু এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ যেমন ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ড শুল্ক প্রতিশোধের আশঙ্কায় সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হতে পারে।
S&P গ্লোবাল রেটিংস এর গবেষণায়, US পণ্যগুলির উপর আরোপিত শুল্কের মধ্যে পার্থক্য এবং শুল্ক প্রভাব কী হতে পারে তার উপর বিশদ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি আরও দেখায় যে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হতে পারে।
এই রিপোর্টের মাধ্যমে S&P পরিষ্কারভাবে বলছে যে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে অস্থিরতা এবং শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ভারতসহ বেশ কিছু এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এসব দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে শুল্ক ব্যবস্থা আরো কড়াকড়ি এবং দেশগুলোর উপর অযথা চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের শুল্ক নীতি এবং বাণিজ্যিক কৌশল নির্ধারণে আরও সচেতন হতে হবে, যাতে বিদেশি বাজারের শুল্ক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হয়।
ভারতের সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্য সম্পর্কের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে, এবং দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ আরও অনেক দেশ যেসব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির শিকার হবে, তাদেরও ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে।
এই বিশ্লেষণটি সারা বিশ্বের বাজারে শুল্ক আরোপের প্রভাব বুঝতে সাহায্য করবে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সমন্বয় এবং রক্ষা কৌশলগুলি তৈরি করতে সহায়ক হবে।