iPhone রফতানিতে ইতিহাস, ভারতের নম্বর ওয়ান রফতানি পণ্য স্মার্টফোন

india-iphone-exports-hit-record-smartphone-top-export-2025

ভারতের রফতানি মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক গড়ে উঠল ২০২৫ সালে। প্রথমবারের মতো দেশের সর্বোচ্চ রফতানি পণ্যের তালিকায় শীর্ষস্থানে উঠে এল স্মার্টফোন—আর তার সিংহভাগই অ্যাপলের আইফোন (iPhone)। অর্থনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারত থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আইফোন রফতানি হয়েছে। ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির মতো নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে বহুদিন ধরে শীর্ষে থাকা রত্ন ও গয়না এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যকে পিছনে ফেলে স্মার্টফোন এখন ভারতের নম্বর ওয়ান রফতানি বিভাগ।

এই বিপুল সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাপল। মোট স্মার্টফোন রফতানির প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছে আইফোন থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ ২০২০ সালে কেন্দ্র সরকারের চালু করা প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়, যা বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে ভারতে কারখানা গড়তে উৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে “China+1” কৌশলের অংশ হিসেবে উৎপাদনের একটি বড় অংশ চিনের বাইরে সরিয়ে আনার পরিকল্পনাও ভারতের পক্ষে গেছে।

   

বর্তমানে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটক আইফোন উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। চেন্নাইয়ের আশেপাশে এবং বেঙ্গালুরু অঞ্চলে গড়ে ওঠা উৎপাদন হাবগুলিতে অ্যাপলের পাঁচটি বড় কারখানা সরাসরি কাজ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রায় ৪৫টি সহযোগী সরবরাহকারী সংস্থা—যারা যন্ত্রাংশ, প্যাকেজিং, লজিস্টিক্স এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে শুধু রফতানি নয়, লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে বলে শিল্পমহলের দাবি।

পরিসংখ্যান বলছে, শুধু নভেম্বর ২০২৫ মাসেই ভারত থেকে আইফোন রফতানির পরিমাণ ছুঁয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। উৎসবের মরসুম ও পশ্চিমী বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই উত্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে এবং নতুন মডেলের আইফোন উৎপাদন ভারতে স্থানান্তরিত হলে রফতানির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

এই সাফল্য ভারতের ইলেকট্রনিক্স শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন ভারতকে মূলত সফটওয়্যার ও পরিষেবা রফতানিকারক দেশ হিসেবেই দেখা হত। কিন্তু আইফোন রফতানির এই রেকর্ড প্রমাণ করছে, উচ্চমূল্যের হার্ডওয়্যার উৎপাদন ও রফতানিতেও ভারত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে ইলেকট্রনিক্স রফতানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে এই উত্থানের মাঝেই কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা, সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো—এই বিষয়গুলিতে নজর না দিলে দীর্ঘমেয়াদে গতি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি, দেশীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়ানো না গেলে পুরো শিল্পটি বিদেশি সংস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, আইফোন রফতানিতে নয়া রেকর্ড ভারতের অর্থনীতির জন্য এক বড় আত্মবিশ্বাসের বার্তা। এটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসই নয়, বরং “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের বাস্তব সাফল্যেরও এক জ্বলন্ত উদাহরণ। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সাফল্য ধরে রাখতে পারলে, আগামী দিনে বিশ্ব ইলেকট্রনিক্স বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন